স্বপ্নকে একটু ছুঁয়ে দেখার মতোই আনন্দ -তাজনিন মেরিন লোপা - হাতেখড়ি

স্বপ্নকে একটু ছুঁয়ে দেখার মতোই আনন্দ -তাজনিন মেরিন লোপা

সাহিত্য ডেস্ক:

তাজনিন মেরিন লোপার লেখালেখি শুরু সেই স্কুল বয়স থেকেই। একসময় ভীষণ সক্রিয় ছিলেন। পরবর্তীতে ফিরে আসেন লেখালেখির মাধ্যমে। বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার লেখা প্রথম শিশুকিশোর গল্পের বই ডাইনির ফলবাগান। বইটি ইতিমধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। বই প্রকাশের দুদিন পর থেকে লেখক অবস্থান করছেন অস্ট্রেলিয়ায়। বই প্রকাশসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা হয় লেখকের সঙ্গে।

প্রথম বই প্রকাশ নিয়ে লোপা জানান, নিজের বই আমার অস্তিত্বেরই একটা ছোট অংশ। আমার প্রথম বই বাচ্চা। এটা খুব বেশি আনন্দের। নিজের লেখা, ভাবনা; যা পাঠকদের সৃজনশীল আনন্দ দেয়ার জন্য তা ছাপার হরফে, রঙের মাঝে দেখতে পাওয়া, একটা স্বপ্নকে একটু ছুঁয়ে দেখার মতোই।
তিনি জানান, শিশুরা হাসলে, আনন্দ পেলে, পৃথিবীও আনন্দিত হয়ে ওঠে। আর এটা খুব কঠিন এবং সূক্ষ্ম একটা বিষয়। ভাবনার গভীরতা, আবার একই সাথে সরলতা, সততা খুব পছন্দ করি। আমার কাছে মনে হয়, এর সব সমন্বয় ছোটদের নিয়ে লেখার মাঝে পাওয়া যায়। অনুভূতি, সরলতা, সততায় আমিও আসলে ওদের বয়সী এবং আমি সেটা খুব উপভোগ করি। ভালো বই মানবিক উন্নতির সিঁড়ির মতোই।

ডাইনির ফলবাগানে কয়েকটি নতুন ও পুরানা লেখা নিয়ে করা হয়েছে। এখানে পাঁচটি গল্প রয়েছে। গল্পগুলোর একেকটির স্বাদ একেক রকম। কোনো গল্প পড়ার সময় পাঠক রাক্ষস-খোক্ষসদের দেশে চলে যাবে; কোনোটা পড়ার সময় বিদেশের মাটিতে চাইনিজ ভূতের করুণ কাহিনি শুনে কষ্টে ভারাক্রান্ত হবে। সায়েন্স ফিকশনের গল্পে যেমন অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য অস্থির লাগবে, তেমনি আরেক গল্পে দেশের জন্য আত্মত্যাগী মানুষগুলোর জন্য মায়া লাগবে। স্কুলের পরীক্ষা জীবনের অনুভূতি, অস্থিরতার সাথে শিক্ষণীয় বিষয়ও আছে আরেকটি গল্পে।

ডাইনির ফলবাগান বইটি নিয়ে এসেছে ছোটদের প্রকাশনা সংস্থা বাবুই। সুন্দর প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ করেছেন আলমগীর জুয়েল। ২০০ টাকায় বইটি পাওয়া যাচ্ছে, শিশু চত্বর বাবুই-এর ৬৪৫ নম্বর স্টলে।

আমার লেখালেখির উৎসাহদাতা আমার বড়ভাই আসহাদুজ্জামান মিলন। লেখালেখিতে তিনি পরিচিত। স্কুল বয়স ও কলেজে পড়ার সময়টা লেখালেখিতে নিয়মিত ছিলাম। এই সময় আমার বড় বন্ধু ছিল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। লেখার প্রথম শর্ত প্রচুর বইপড়া, তা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পূরণ করেছে।

এবারের মেলার সাথে আমার দেখা-সাক্ষাৎ পুরোটাই ইন্টারনেটে। অনেকের সঙ্গেই কথা হচ্ছে, লাইভ দেখছি, খবর দেখছি। খুব ভালো লাগছে। তবে সুদূর অস্ট্রেলিয়ায় থাকলেও মনটা পড়ে আছে বইমেলায়।

তরুণ লেখক হিসেবে আশার চাইতে অনেক বেশি সাড়া পাচ্ছি। আমার বই বের হওয়ার পর থেকে অনেকেই বইটা নিয়ে ফেসবুকে ভালো মন্তব্য দিয়েছেন। পরিবারের বাইরেও যাঁদের সাথে হয়তো দীর্ঘ সময় যোগাযোগ নেই। তারা ইটা নিয়ে বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছন। অনেকে কিনে আমাকে ছবি পাঠাচ্ছেন দেখে ভালো লাগছে। দেশে চলে আসতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু সে উপায় নাই। আগামীতে আমি আরো অনেক বেশি ভালো, মানুষের মন ছোঁয়া, ভালো লাগা, বাচ্চাদের আনন্দ সূক্ষ্ম অনুভূতির অংশীদার হতে চাই। এমন কিছু লেখা লিখতে চাই, যা একই সাথে বাচ্চাদের সৃজনশীলতার ভাবনা তৈরি করে। আবার একই সাথে জীবনের প্রয়োজনীয় শিক্ষণীয় বিষয়কে আনন্দে পরিণত করতে পারে। নিজের দেশের সংস্কৃতিসহ, পৃথিবীর অন্যান্য সংস্কৃতিকেও নানাভাবে, আনন্দের, ভালো লাগার বিষয় হিসেবে লেখনীতে যুক্ত করতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *