সমাজের ধরাবাঁধা নিয়মের বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাই -সায়মা - হাতেখড়ি

সমাজের ধরাবাঁধা নিয়মের বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাই -সায়মা

খাদিজা আক্তার সায়মা। সিলেটের উইমেন্স মডেল কলেজের নবম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে। পিতা প্রবাসে অবস্থানরত মোহাম্মদ আবুল খয়ের এবং মাতা রেহানা আক্তারের সুযোগ্য সন্তান খাদিজা পিএসসি এবং জেএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ পাঁচ এবং বৃত্তি অর্জনসহ ছবি আঁকা, সাহিত্য, আবৃত্তি ও বক্তৃতাসহ নানা বিষয় পুরস্কৃত হয়েছে এবয়সেই। বাংলাবিদসহ নানান অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারি সিলেটের মেধাবী এই শিক্ষার্থীর মুখোমুখি হয়েছে হাতেখড়ি। বিস্তারিত পড়ুন আব্দুল্লাহ আল মামুন এর সাক্ষাৎকারে।

হাতেখড়ি: প্রথমেই তোমার পছন্দের দিকগুলো যদি বলতে?
খাদিজা: কবিতা আবৃত্তি আমার সবচেয়ে পছন্দের একটি বিষয়। এছাড়াও অ্যাডভেঞ্চার বিষয়ক বই পড়তে ভালো লাগে। ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত প্রথম আলো পত্রিকা পড়ি এবং পত্রিকা গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সংগ্রহ করে রাখতে পছন্দ করি এছাড়া অবসরে ছবি আকিঁ।

হাতেখড়ি: তোমার ভবিষ্যত চিন্তাধারা বা সপ্ন সম্পর্কে যদি কিছু বলতে?
খাদিজা: আমার প্রোগ্রামিং এর ব্যাপারে খুবই আগ্রহ আছে। স্বপ্ন দেখি একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার। যদিও আমাদের দেশের প্রক্ষাপটে কাজটা চ্যালেঞ্জিং এরপরও আমি সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং কাজ করতে ভালোবাসি। ভবিষ্যতে আইসিটি ছাড়া একটি দিনও মানুষ কল্পনা করতে পারবেনা এবং সবকিছুই আজকাল সফটওয়্যার নির্ভর হয়ে যাচ্ছে। প্রোগ্রামারদের চাহিদাও বর্তমানে অনেক বেশি। তাই বড় হয়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই। পাশাপাশি আমি এই সমাজের ধরাবাঁধা নিয়মের বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাই। প্রকৃত মানুষ হতে চাই। দেশের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই।

হাতেখড়ি: মানুষের জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি শিল্প কিংবা পুথিগত বিদ্যার বাইরে জ্ঞান চর্চাকে তুমি কিভাবে দেখো?
খাদিজা: ব্যাপারটিকে আমি অত্যন্ত ইতিবাচকভাবেই দেখি। কারণ শিল্প-সাহিত্য ছাড়া পড়াশোনাকে আমার কাছে রসহীন মনে হয়। প্রত্যেকটা মানুষের ভেতরেই একটা সুপ্ত প্রতিভা থাকে। পড়াশোনার পাশাপাশি যখন আমরা একই তালে শিল্প সাহিত্যের চর্চা করি, তখনই আমাদের ভেতর লুকায়িত সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করতে পারব।

হাতেখড়ি: চলার পথে কার বেশি সহায়তা পাও?
খাদিজা: চলার পথে আমার বাবা-মায়ের সহায়তা সবচেয়ে বেশি পাই। বাবা বিদেশে থাকেন, তবুও সবসময়ই আমাকে সাহস যোগান। মা তো আমার ছায়াসঙ্গী। যেকোনো ভালো কাজে অংশ নেওয়ার জন্য মা সবসময়ই অণুপ্রেরণা দেন।

হাতেখড়ি: এখন পর্যন্ত তোমার পুরস্কার বা অর্জনগুলো কি কি?
খাদিজা: ২০১৪ সালে ইএসডি ফাউন্ডেশন কর্তৃক ট্যালেন্টপুল গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেছিলাম। ২০১৬ সালে ক্রিসেন্ট বাতিঘর সাংস্কৃতিক বিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত হয়েছিলাম। ২০১৭ সালে ‘জাতীয় সৃজনশীল মেধা অন্বেষন’ এ সিলেট মহানগর অঞ্চলে ‘ভাষা ও সাহিত্য’ বিভাগে “বছরের সেরা মেধাবীর” স্বীকৃতি লাভ করেছি।২০১৮ সালে “ইস্পাহানী মির্জাপুর বাংলাবিদ” এ সিলেট বিভাগের সেরা ১০০ তে নির্বাচিত হবার সুযোগ হয়েছে। ২০১৮ সালে ‘৪র্থ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড’ এ আঞ্চলিক পর্যায়ে “চ্যাম্পিয়ন” হয়েছি।

সাধারণ জ্ঞান আমার খুব পছন্দের একটা বিষয়। একবার স্কুলে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে একটা কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে মোট প্রশ্ন ছিল ৩০ টি। প্রতিযেগিতা শুরু হওয়ার ৫ মিনিটের মধ্যেই আমি সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলাম। পুরষ্কার বিতরণের সময় ঘোষণা দেওয়া হয় যে, আমিই প্রথম হয়েছি এবং আমিই এই কুইজ প্রতিযোগিতার একমাত্র প্রতিযোগি যে ৩০ টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়েছে। সেদিনের ঘটনাটা আমার জীবনে ছিল সত্যিই অসাধারণ।

হাতেখড়ি: তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
খাদিজা: সুস্থ বিনোদন ও সংস্কৃতির সুষ্ঠু চর্চার অভাবে বর্তমানে অনেক কিশোর তরুণ ঝুঁকে পড়ছে নানারকম অপরাধমূলক কর্মকান্ডে। হাতেখড়ি পত্রিকার মাধ্যমে কিশোর-তরুণেরা সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি জাতীয়, আন্তর্জাতিক, খেলাধুলা সহ বিভিন্ন খবরা-খবর পাচ্ছে। পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলছি- সাফল্যের পেছনে না ছোটে, মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করো।  চারপাশের মানুষদের ভালোবাসো, তাদের সুখে-দুঃখে এগিয়ে যাওয়ার কথাগুলো হাতেখড়িতে পাই। আর তাই হাতেখড়ির জন্যও অনেক অনেক ও রইলো শুভকামনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *