শীতজনিত রোগে ঝুঁকিতে আছে গাইবান্ধার শিশুরা - হাতেখড়ি

শীতজনিত রোগে ঝুঁকিতে আছে গাইবান্ধার শিশুরা

মোঃ মেহেদী হাসান, গাইবান্ধাঃ
গাইবান্ধায় শীতের প্রকোপে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়াসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগ। ঠান্ডা ও রোটা ভাইরাসে আক্রান্তের কারণে ঝুঁকিতে পড়েছে শিশুরা।
চলতি মাসে ৭০০ এর বেশি রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়েছে জেলা সদর হাসপাতালে। এসব শিশুর মধ্যে ৯০ ভাগের বয়স দুই বছরের নিচে। রোগীর অতিরিক্ত চাপে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। তবে অভিভাবকরা সচেতন হলে এই রোগ থেকে শিশুদের সহজে রক্ষা করা সম্ভব বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছে।
গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন শিশু ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় মেঝেতে থাকতে হচ্ছে অনেককেই। চিকিৎসা দিতে শিশুদেরকে নিয়ে সিঁড়িতেই থাকছেন রোগীর স্বজনরা। এদের মধ্যে অনেকের বয়স এক বছরের নিচে।
প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকছে অন্তত গড়ে ৫০ জনের বেশি রোগী। অনেকে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্তান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই অবস্থা গাইবান্ধার ফুলছড়ি, সাঘাটা, গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী, সাদুল্লাপুর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে।
জেলা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসে ডায়রিয়া রোগীর পরিমাণ তুলনামূলক অনেক বেশি। চলতি মাসের ৬ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত ৭০০ জন ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে জেলা সদর হাসপাতালে। হাসপাতালে বেড রয়েছে ২০টি যা রোগীর তুলনায় অনেক কম। গড় করে দেখা গেলে এক বেডে নতুন পুরাতন মিলে ৩-৪ জন রোগীর স্থান হয়। প্রতিদিন ১৫-৪০ জন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে।
শিশু ফাতেমার বাবা জহুরুল বলেন, গত দু’দিন থেকে আমার মেয়ের পাতলা পায়খানা ও বমি করছে। গ্রাম্য ডাক্তার দেখিয়েছি কোনো উপকার হয়নি। এতগুলা টাকাও খরচ হলো মেয়েটা সুস্থ্ হলো না। ভালো চিকিৎসার জন্য রোববার হাসপাতালে ভর্তি করাই। ডাক্তাররা দেখে দ্রুত ওষুধ দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রোগীর স্বজন বলেন, আমার সন্তানের পায়খানা ও বমি হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করায়। কিন্তু বেড না পেয়ে দোতালায় ওঠার সিঁড়িতে অবস্থান করতে হচ্ছে। ডাক্তাররা তো বলেন, পরিষ্কার থাকতে কিন্তু চলাচলরত সিঁড়িতে চিকিৎসাসেবা নেয়ায় অনেক সমস্যা হচ্ছে।
শিশু রাফিয়ার বাবা রবিউল ইসলাম বলেন, আমার মেয়ের বয়স ৫ মাস। পাতলা পায়খানার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এখন ভালো আছে রাফিয়া। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে বাড়ি যাব। আমার মেয়ের চিকিৎসা সেবা ভালো পেয়েছি।
শিশু ওয়ার্ডের এক সেবিকা বলেন, আমাদের সেবার আন্তরিকতায় রোগীরা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে। ঠান্ডাজনিত রোগে শিশুদের তালিকা বেশি। তবে বয়স্কদের তালিকা নেই বললেই চলে।
গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালর শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আবুল আজাদ মন্ডল বলেন, বেশিরভাগ শিশু রোটা ভাইরাসের মাধ্যমে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। এছাড়া শীতজনিত নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে শিশুরা আসছে বেশি।
জেলা সদর হাসপাতাল তত্ত্বাবধারক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মাহফুজার রহমান বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ ও স্যালাইন রয়েছে। এই রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া উচিত। আমরা অভিভাবকদের পরামর্শ দিচ্ছি। শিশুদের কোনোক্রমে ঠান্ডা লাগানো যাবে না, সেজন্য তাদের গরম কাপড়ের রাখতে হবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি ঠান্ডা ও বাসি খাবার না খাওয়ার জন্য অভিভাবকদের বিরত থাকতে হবে। তিনি বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় বেড কম থাকায় সিঁড়িতে, বারান্দায় রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেয়ায় এবার শীত আরম্ভ হওয়ার পর থেকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। তবে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষায় অভিভাবকদের সচেতনতা জরুরি বলে মনে করেন ডা. মাহফুজার রহমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *