শিক্ষা ব্যবস্থা ও কিছু কথা - হাতেখড়ি

শিক্ষা ব্যবস্থা ও কিছু কথা

 এস.এম.ফাহাদঃ

যখনই শিক্ষা ব্যবস্থার কথা আসে তখনই আমার মতো শিক্ষার্থীদের মধ্যে অদৃশ্য এক হতাশা কাজ করে। আদৌ সঠিক অর্থে বলা হয়তো সম্ভব না এর আসল কারণ কি?তবে একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে সবসময়েই মনে হয় আরে আমাদের শিক্ষা পদ্ধতি এমন কেন?

যাইহোক দিনশেষে আমরা ঠিকঠাক ভাবে এই অবাস্তবিক পদ্ধতির সাথে মানিয়ে নেই কষ্ট করে হলেও। মোদ্দাকথা হচ্ছে বাচ্ছা বয়স থেকে শুরু করে আমাদেরকে যে ভাবে ট্রিট করা হয় তা মনে হয় আমাদের কল্পনার জগতেও পাওয়া যায় না। প্রতিটি ছোট ছোট ধাপে আমাদের শিখানো হয় কিভাবে প্রেশার ইউটিলাইজ করতে হয়, শেখানো হয় নোংরা প্রতিযোগিতা যা শিশুর মানসিক বিকাশকে দারুণ ভাবে বাধাগ্রস্ত করে।

মূলত এইভাবেই বেড়ে উঠে আমাদের শৈশবের শিক্ষার পথচলা। দিনে দিনে যখন পড়াশোনা আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয় ততদিনে আসলে আমরা মেশিনে পরিণত হয়ে যাই। কখন কোথায় কিভাবে আমাদের মেশিন চালু করতে হবে কখন বন্ধ করতে হবে তা আমরা ধারুণ ভাবে শিখে নেই ততদিনে। সত্যি কথা বলতে আমাদের শিক্ষা পদ্ধতির করুণ দশার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমাদের অভিভাবকদের। জন্মের পর পরই ঠিক হয়ে যায় ছেলে/মেয়ে কি হবে না হবে! কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব ? দক্ষিণ এশিয়ার দেশ গুলো বিশেষ করে ভারত,বাংলাদেশ দেশ গুলোর কমন একটা বিষয় হয়ে গেছে এটা। এমনকি দেখা যায় আমাদের জানার বা বুঝার সক্ষমতাই হলো না আমি কোন বিষয়ে ভালো/কোন সাবজেক্টে আমার ইন্টারেস্ট। বাহ বিষয়টা সুন্দর নাহ?

আমার কাছে কিন্তু দারুণ লাগে ব্যাপারটা!জন্মের পরই ট্যাগ লাগার মধ্যে দারুণ একটা বোকা বানানোর মজা পাওয়া যায়। যাইহোক আমাদের দেশের বেকার যুব সমাজের দেশের অগ্রযাত্রায় অংশিদার না হতে পারার অন্যতম কারণ করুণ শিক্ষা পদ্ধতি! প্রতিবছর লাখ লাখ ছেলে-মেয়ে রঙ্গিন স্বপ্ন নিয়ে সফর শুরু করে কিন্তু শেষ সময়ে হতাশা আর দুর্বল শিক্ষা কাঠামো আমাদের বিড়াল প্রজাতি বানাচ্ছে দিনকে দিন।

বললে অনেক কথাই বলা যায়,একজন শিক্ষার্থী হিসেবে অভিযোগের লিস্ট অনেক বড়ো হবে। কিন্তু এতো বড় বড়। অভিযোগ একদিনে জানানোর ইচ্ছে হচ্ছে না। পরর্বতী কলামে জানাবো আরো অনেক হতাশার গল্প আর হ্যাঁ কিছু আসার গল্পও খোঁজার চেষ্টা করবো না হয়! শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষা পদ্ধতির পদ্ধতিগত সমাধানে সমাধান হোক আর শিক্ষার্থীদের মতামত আর চাহিদা শিক্ষার মূল লক্ষ্য হোক সেটাই একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর কামনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *