রংপুরের বিভিন্ন পার্কে শিশু ও অভিভাবকরা মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে

খালিদ আহম্মেদ রাজা:
রংপুরের শিশু পার্ক প্রেমিক-প্রেমিকাদের পদচারণায় ডেটিং স্পটে পরিণত হয়েছে। কপোত-কপোতিদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে বিব্রত সাধারণ দর্শনার্থী ও শিশুদের সঙ্গে আসা অভিভাবকদের অনেকেই পার্কটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

বর্তমান সময়ের রংপুরে নামকরা “সিটি চিকলি” পার্ক। শিশুর মেধা বিকাশের প্রধান কারন বিনোদন। বিনোদন শিশুর মানসিকতা বিকাশে বড়ো ভূমিকা রাখে। কিন্তু সেই বিনোদন কোথায়? যদি আছে পার্ক তাও আবার প্রেমিক প্রেমিকার দখলে। চলছে প্রকার্শ অশ্লীন কর্ম কান্ড যা দেখে শিশু অভিভাবকরা মুখ ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর/১৯) পার্কটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পার্কের পাশের বিশাল মাঠটি অঘোষিতভাবে জুটিদের অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর স্থানে পরিণত হয়েছে। বেশ কয়েকটি জুটিকে এ মাঠের বিভিন্ন গাছের কোনে বসে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায়। অথচ যারা মাঠের দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের কোনো নজর নেই। তারা নিজেদের মতো করে ঘুরছে আর গল্প করছে।

শিশুপার্কে যুগলদের এমন ‘অশালীন’ মেলামেশার বিষয়ে পার্কে আসা দর্শনার্থী মোশারফ খন্দকার অভিযোগ করেন, ‘বাচ্চা নিয়ে পার্কে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি। শিশু পার্কে তরুণ-তরুণীদের এমন মেলামেশায় পার্ক কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকা অবাক করেছে আমাকে। সাধারণ মানুষ হিসেবে আমার দাবি, আর কোনো অভিভাবক যেন তার শিশুকে নিয়ে এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়েন।

ছেলেকে নিয়ে পার্কে বেড়াতে আসা অ্যাডভোকেট সাইমুন ইসলাম বলেন, এটা শিশু পার্ক না করে বড়দের পার্ক করলে ভালো হতো।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেক দর্শনার্থী পার্ক থেকে বের হয়ে যেতেও দেখা গেছে।

রাইডের দায়িত্বে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, পার্কের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আগের চাইতে দর্শনার্থী অনেক কমে গেছে। ছুটির দিন কিছু দর্শনার্থী হয়। আর বেশিরভাগ কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা আসে। তবে এ পার্কে নিয়মের বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *