বাংলাদেশে মীনা কার্টুনই জনপ্রিয়তার শীর্ষে - হাতেখড়ি

বাংলাদেশে মীনা কার্টুনই জনপ্রিয়তার শীর্ষে

মোহাম্মদ মোশারফ হোসাইন:

ছোটবেলায় একদিন বন্ধু সিয়ামের বাড়িতে গিয়ে দেখি তারা সবাই টম এন্ড জেরি ও বিভিন্ন কার্টুন দেখছে আর হাসছে । সিয়াম আমাকে বলল তোর কোন কার্টুন প্রিয়। আমি বললাম মীনা কার্টুন। বন্ধু সিয়াম বলে এই নামেতো কোন কার্টুন দেখিনি। আর মাত্র দশ মিনিট পরই মীনা কার্টুন শুরু হবে তাকে অপেক্ষা করতে বললাম।সেদিন সিয়াম, মীনা কার্টুন প্রথম দেখে ও স্বাস্থ্যসচেতনতা শিখে। এবং দেখবার পর আমাকে বলে, আজ মীনা কার্টুন দেখে বুঝতে পারলাম আমি কিসের জন্য এতো অসুস্থ থাকি এর পর থেকে সিয়াম মীনা কার্টুনের সব পর্ব দেখে শিখেছেন আমার মতো অনেক কিছুই। এইভাবেই শিক্ষা,সচেতন আর বিনোদনের মাধ্যেমে সব বন্ধুদের অন্তরে যাইগা করে নেয় মীনা কার্টুন।

জনপ্রিয় কার্টুন ‘মিনা’ নামের বালিকা চরিত্রটি মেয়ে শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার। ১৯৯১ সালে একজন ১০ বছর বয়সী বালিকা হিসেবে মিনা চরিত্রের সৃষ্টি। মিনা চরিত্রটি বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল তথা দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েশিশুদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি বালিকা চরিত্র। ১৯৯৮ সাল থেকে দেশব্যাপী মিনা দিবস উদযাপন করছে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা।

আজ ২৪ সেপ্টেম্বর, সেই মীনা কার্টুনেরই মীনা দিবস। মীনা শিশু-কিশোরদের ব্যাপক জনপ্রিয় বাংলা কার্টুন। ইউনিসেফ ওই কার্টুন ছবিটি তৈরি করে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মেয়েশিশুদের অধিকার রক্ষার তাগিদ থেকে মীনা কার্টুনের জন্ম। কার্টুনের মূল চরিত্র মীনা আট বছর বয়সের একটি কন্যাশিশু। সে তার পরিবারের সঙ্গে একটি ছোট গ্রামে বাস করে তার ছোট ভাই আছে রাজু ও মীনার আছে একটা টিয়া পাখিও। শিশু অধিকার, শিশুদের পড়ালেখা, স্বাস্থ্যসচেতনা, শিশুপাচার, বাল্যবিবাহ প্রভৃতি বিষয় চরিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলে মীনা। কার্টুনের প্রধান চরিত্র মীনা সবার খুব প্রিয়।

মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের ভালো ভালো খাবার দেওয়া হতো। মেয়েরাও যে ভালো ভালো চাকরি করতে পারে, ব্যবসা করতে পারে—এটা কেউ চিন্তাই করতে পারত না। এ অবস্থার তো পরিবর্তন হওয়া দরকার শিশুদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য এমন একটা কিছু করতে হবে, যা তাদের অবস্থার পরিবর্তনে সহায়ক হবে। দায়িত্ব পড়ল জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) ওপর। ইউনিসেফ চিন্তা করল, যদি এমন একটা চরিত্র সৃষ্টি করা যায়, যে পড়ালেখা করে এমন কিছু কাজ করবে, যা দেখে মেয়েদের মা-বাবারা বুঝতে পারবেন যে মেয়েদেরও লেখাপড়া করানো দরকার। যেমন ভাবা, তেমন কাজ।

ডেনমার্কের আর্থিক সহায়তায় তৈরি করা হলো এক নতুন ধারাবাহিক অ্যানিমেশন কার্টুন ছবি, যার প্রধান চরিত্র হলো মীনা। আট বছরের মীনা ভীষণ হাসিখুশি একটি মেয়ে। সবার জন্য ভালো কিছু করতে মীনা সবার আগে থাকে। সব সময়ই তার আগ্রহ, কিসে এলাকার মানুষের উপকার হয়। যখনই মা-বাবার দরকার পড়ে, তখনই মীনা তাঁদের সাহায্য করে। ঘরের কাজও যেমন করে, তেমনি পড়ালেখাও করে। ইউনিসেফ এর কারিগরি সহায়তা সব শিশুই একই কার্টুন হয় আজকের মীনা কার্টুন।

শিশুদের বিনোদনেও মীনা কার্টুন ষীর্শে অবস্থান করছে। শিশুদের জন্য দেশের খুব কমই টিভি বিনোদন অনুষ্ঠান নির্মান করা হয়ে থাকে। তবু যতটুকু হয় তার মধ্যে মীনা কার্টুনই সেরা। শুধুমাত্র শিশুদের কাছেই নয় বলা যায় সব বয়সীরাই এই কার্টুন উপভোগ করে থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *