ভালবাসা দিবসে অসহায়দের পাশে একদল মমতার ফেরিওয়ালা - হাতেখড়ি

ভালবাসা দিবসে অসহায়দের পাশে একদল মমতার ফেরিওয়ালা

নীলফামারী প্রতিনিধি :

সংগঠনের একজন ভ্যান টানছে। কয়েকজন সদস্য সেই ভ্যানে খাবার ও কাপড় নিয়ে আছে। বাকি সদস্যরা হাটছে ভ্যানের পিছন পিছন। এভাবেই একদল মমতার ফেরিওয়ালা রাস্তায় রাস্তায় অসহায় দুস্থদের দেখামাত্র বাড়িয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানির প্যাকেট আর নতুন জামা। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে ফুল, গিফট দেওয়া নেওয়ার চিরাচরিত ধারণাকে পাল্টে দিয়ে গরিব দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খাবার আর কাপড় দিয়ে নীলফামারীর সৈয়দপুরের স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর’ উদযাপন করেছে এক ব্যতিক্রমধর্মী ভালবাসা দিবস।

১৪ ই ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভালবাসা দিবস উপলক্ষে সংগঠনের সদস্যরা এদিন দুইটি গোলাপের সর্বনিম্ন দাম ১০০ টাকা করে জমা করে। সেই টাকা দিয়ে অসহায়দের মুখে খাবার তুলে দিতে ব্যতিক্রম এই আয়োজন। মমতার ফেরিওয়ালা নিয়ে এদিন আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর’র এসরার আহমেদ, খালিদ আজম, নওশাদ আনসারী, সাজিদ সাজু, জীবন, আলমগীর, সৈয়্যদ মোস্তাকিম, সোহেল, রকি, রাজা, সোহাগ, ইব্রাহিম, আমিরসহ অন্যান্য সদস্যরা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সৈয়দপুরের কয়াগোলাহাট, ধলাগাছ, জসিম বাজার ও ধলাগাছ মাদ্রাসায় শতাধিক অসহায় শিশুদের মাঝে গিয়ে প্যাকেটজাত ওই বিরিয়ানির প্যাকেটগুলো বিতরণ করে। সাথে শিশুদের দিয়েছে দেশপ্রেমের দীক্ষা। ধলাগাছ এলাকায় শিশুদের নিয়ে আয়োজন করেছে দেশকে জানো কুইজ প্রতিযোগিতা। পরে বিজয়ীদের মাঝে কাপড় আর পুরস্কারও বিতরণ করে সংগঠনটি।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নওশাদ আনসারী জানান, ‘আমরা ৫০ টাকার গোলাপ খরিদ না করে পকেট খরচের সে টাকায় প্রতি বছর অসহায়দের খাবারের ব্যবস্থা করে থাকি। মূলত ভালোবাসার আসল মর্মটা সকলের কাছে তুলে ধরতেই প্রতি বছর ভালোবাসা দিবসটি আমরা এভাবেই পালন করে আসছি।’

তিনি আরো জানান, ‘আমাদের সংগঠনের স্বপ্ন ছিল অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়ে প্রকৃত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ সবার মাঝে তুলে ধরা। কিছুটা হলেও সমাজকে আমরা এই বার্তা দিতে পেরেছি। এভাবেই প্রতি বছর আমরা ভালোবাসা দিবস উদযাপন করি। সমাজের গরিব ও ছিন্নমূলদের সাথে ভালোবাসা ভাগাভাগি করে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *