ভয়াবহ যত অগ্নিকাণ্ড - হাতেখড়ি

ভয়াবহ যত অগ্নিকাণ্ড

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

মানবসভ্যতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হচ্ছে আগুন। সভ্যতা গড়তে যেমন আগুনের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার প্রয়োজন তেমনি সভ্যতা ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত আগুন।কালে কালে এর রূপ একই। কান্না, ধ্বংস হাহাকার।

আসুন জেনে নেয়া যাক । পৃথিবীর কিছু ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কে।
তিনদিনে পুড়ে ছাই গোটা লন্ডন,১৯৬৬
 ১৯৬৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে লন্ডন ব্রীজের কাছে পুডিং লেনের কাছে একটি বেকারির দোকানে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। মুহুর্তে আগুন বেকারি জ্বালিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। তখন ও কেউ ভাবতে পারেনি আগুন গোটা শহর ছড়িয়ে পড়বে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা তাদের সাধ্যমত চেষ্টা করলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।
আগুনের ব্যপ্তি ক্ষণে দানবাকৃতি রূপ নিতে থাকে। পুড়তে শুরু করে ঘরবাড়ি, দোকানপাট সব। ইংল্যান্ড এর রাজা নিজেও সেনাবাহিনীদের সাথে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তবু রক্ষা করা যায়নি শহর নগর। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের অদক্ষতাই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ বলা হয়। এতবড় অগ্নিকাণ্ডে ঠিক কতজন নিহত হয়েছিলেন তার সঠিক ধারণা আজও পাওয়া যায়নি।
সম্রাট নিরোর সামনেই পুড়লো রোম,৬৪
রোমের প্যালাটাইন হিলের বস্তি থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত। তখনকার সব কাঠামোই ছিল কাঠের তৈরি তাই খুব সহজেই আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকে। দীর্ঘ ছয়দিনে সর্বগ্রাসী আগুন তার চলার পথে সামনে যা পেয়েছে সবটা জ্বালিয়ে দিয়ে গেছে।পুড়ে ছারখার রোমান সম্রাট নিরোর প্রাসাদ, টেম্পল অভ জুপিটার, টেম্পল অভ ভেসেটা সহ বহু স্থাপনা।
চীনে ২৮ তলা ভবনে আগুন
ভরদুপুর, সময় দুপুর ২টা। চীনের সাংহাই এর ২৮ তলা ভবনের ১০ তলায় আগুনের ঝলকানি।সেই আগুন বাড়তে পুরো বিল্ডিং ছড়িয়ে পড়ে। চারিদিকে মানুষের আর্তনাদ। ফায়ার সার্ভিসের ৮০টি ইউনিট এর অক্লান্ত চেষ্টায় পড়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।এ ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ৫৮ জন। হতাহতের সংখ্যা প্রায় ৭০ জন।
ছারখার হয়ে গেছে শিকাগো,১৮৫০
১৮৫০ সালে শিকাগোর ছোট একটি শহরে প্রথমে আগুন লাগে। গ্রীষ্মের গরম, অতিরিক্ত বাতাস, কাঠের ঘরবাড়ি, দোকানপাট সবই যেন আগুনের সহায়ক। আগুনের তাপে প্রথমদিন পেরিয়ে দ্বিতীয়দিনে দাউদাউ করে জ্বলছে পুরো শিকাগো। এ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হন। পুড়ে যায় শহরের ১৭ হাজার বাড়ি।
সানফ্রান্সিসকোতে আগুন,১৯০৬
১৯০৬ সালের ১৮ এপ্রিল সকালে মানুষের ঘুম ভাঙল মৃদু ভূমিকম্পে। কিন্তু ভূমিকম্পের পরবর্তী ঘটনা ভয়াবহ। ভূমিকম্পের পর শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন লেগে যায়। দ্রুত পদক্ষেপ নিলেও সেনাবাহিনীর পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছিল না।এ ঘটনায় আনুমানিক ২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ও ৪ লক্ষ অধিবাসী গৃহহীন হয়ে পড়ে।
 যুগে যুগে আগুনে পুড়ে কখনো সভ্যতা হয়েছে সৃষ্টি, কখনো হয়েছে ধ্বংস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *