বৃহস্পতির অত্যাশ্চর্য রঙ - হাতেখড়ি

বৃহস্পতির অত্যাশ্চর্য রঙ

অনিরুদ্ধ সাজ্জাদ:

আমাদের সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি। সম্প্রতি বৃহস্পতির অত্যাশ্চর্য নতুন রঙিন ছবি প্রকাশ করেছে নাসা। ছবিগুলি জুনো মহাকাশযান দ্বারা গৃহীত হয়েছিল। বৃহস্পতিতে পাঠানো স্যাটেলাইট জুনো অনেকগুলো সাদাকালো ছবি তুলে পাঠিয়েছে পৃথিবীতে। আর পৃথিবীর মানুষকে দেখানোর জন্য সেগুলোকে রঙিন করা হয়েছে।

জুনো মহাকাশযানটি ২০১১ সালে পাঠানো  হয়েছিল। নাসা ওয়েবসাইটের মতে জুনো’র লক্ষ্য ছিল জুপিটারের রসায়ন, বায়ুমন্ডল, অভ্যন্তরীণ গঠন এবং ম্যাগনেটোস্পের পরীক্ষা করা।

জুনো ২০১২ সালে জুপিটারে পৌছেছিল তার উৎপত্তি এবং বিবর্তনের সূত্র খোঁজার জন্য। বৃহস্পতি গ্রহ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর মহাকাশযান জুনো উৎক্ষেপণ করেছিল নাসা।

২০১৬ সালের ৪ জুলাই থেকে বৃহস্পতির কক্ষপথের ওপর দিয়ে এর আগে ৭ বার ফ্লাইবাইয়ের সময় গ্রহ এবং আবহাওয়ামণ্ডলের একাধিক ছবি পাঠিয়েছে জুনো। সেখান থেকে বৃহস্পতি সম্পর্কে জানা গিয়েছে বহু অজানা তথ্য। জুনোর তথ্য বলছে, বাইরে থেকে যতটা মনে হয়, ভেতর থেকে বৃহস্পতির পরিমণ্ডল তার থেকে অনেক জটিল, যা পৃথিবীর পদার্থবিজ্ঞানীদের মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট।

জুনো মহাকাশযান ইতিমধ্যে বৃহস্পতি গ্রহের ভয়ংকর মেঘপুঞ্জের খুব নিকট দূরত্ব দিয়ে ( ৩,১০০ মাইল) ভ্রমণ করে ইতিহাস গড়ে ফেলেছে। নাসা প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে তৈরি করেছে এই মহাকাশযানটি। এর প্রধান কাজ হচ্ছে, বৃহস্পতির সেই দুর্ভেদ্য মেঘের স্তর ভেদ করে গ্রহের পাথুরে ভূপৃষ্ঠের ছবি তুলে পৃথিবীতে প্রেরণ করা। প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার মাইল বেগে ছুটে চলা এই মহাকাশযানের সাথে জুড়ে দেয়া জুনোক্যামের সাহায্যে প্রতি ৫৩ দিনে অন্তত একবার এটি সফলভাবে নাসার নিকট ছবি প্রেরণ করে যাচ্ছে। আর সেগুলো দেখে মনেহয় যেন কোন মহান চিত্রশিল্পীর রং তুলিতে আঁকা ছবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *