পায়রা%%%

পায়রাটি ছয় ঘন্টা বৈদ্যুতিক তারে আটকে ছিলো

খুরশিদ জামান কাকন, নীলফামারী:

সাদা বর্নের একটি পায়রা। পায়ে সুতো বাধা। হয়তো কারো পোষা হবে। পায়রাটি ছুটছিলো হয়তোবা কোন গন্তব্যে। এরই ফাকে পায়রাটি আশ্রয় নিয়েছিলো বৈদ্যুতিক তারে। সেখানেই তার পা আটকে যায়। সুতোর সাথে বৈদ্যুতিক তারের প্যাচ লেগে যায়। এরফলে পায়রাটি শুধু ছটফট করছিলো। কোনভাবেই মুক্ত হতে পারছিলো না।

দৃশ্যটি ২৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বঙ্গবন্ধু সড়কের নিয়ামতপুর এলাকার। সকাল থেকে বিপদগ্রস্ত এই পায়রাটির দিকে চোখ পড়ে সেখানকার স্থানীয় এক দোকানদারের। তিনি অনেক্ষন ধরে পায়রাটিকে বৈদ্যুতিক তারের উপর লক্ষ করছিলেন। পায়রাটি কোনভাবেই উড়তে পারছিলো না। সেখানকার স্থানীয়রা নানানভাবে পায়রাটিকে উড়ানোর চেস্টা করেছিলেন। কিন্তু পায়ে থাকা সুতোর সাথে বৈদ্যুতিক তারের জটিল প্যাচ লাগায় মুক্ত হতে পারছিলো না।

এমন্তবস্তায় কোন সমাধান খুজে না পেয়ে স্থানীয়রা পাখি ও প্রকৃতি সুরক্ষায় কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেতুবন্ধনকে খবর দেন। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে সংগঠনটির সভাপতি আলমগীর হোসেন ও যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব জনি উপস্থিত হন এবং ফায়ার সার্ভিসকে ডেকে নেন।

মুহুর্তেই পায়রাটিকে বাঁচাতে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি গাড়ি ঘটনাস্থলে হাজির হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের সুনিপুণ দক্ষতায় বিপর্যস্ত পায়রাটি অবশেষে তার মুক্ত জীবন ফিরে পায়। এরফলে দ্বীর্ঘ ছয়ঘন্টা বৈদ্যুতিক তারে আটকে থাকার পর পায়রাটিকে মুক্ত আকাশে বিচরণ করে।

সেতুবন্ধন ও ফায়ারসার্ভিসের এমন উদার কর্মকান্ডে স্থানীয়রা উচ্ছাসিত। প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন জানান, ‘এতোদিন জানতাম মানুষ মানুষের জন্য কিন্তু আজ জানলাম মানুষ পাখি ও প্রকৃতির জন্যও।’ সেতুবন্ধনের সভাপতি আলমগীর হোসেন জানান, ‘বেলা ১২ টায় স্থানীয়দের মাধ্যমে আমাদের কাছে এই পায়রার খবর আসে। আমরা তাৎক্ষনিক উপস্থিত হই এবং ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় পায়রাটিকে অবমুক্ত করি।’

সৈয়দপুরে আক্রান্ত পায়রাটি হয়তো সচেতন নাগরীক সমাজের চোখে পড়েছিলো। তাই হয়তো সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পায়রাটি মুক্ত জীবন ফেরে পেয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন এরকম অসংখ্য প্রানী নানানভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। মানুষের খেয়ালে বা বেখেয়ালে প্রকৃতি থেকে অনেক প্রাণীই বিলুপ্ত হওয়ার পথে। তাই সকলকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেতুবন্ধনের।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *