পরীক্ষার ফলাফল ই একমাত্র যোগ্যতা নয়

মো. আহসান হাবিব মারুফ, রংপুর:
পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ায় আত্মহত্যা এখন রোজকার ঘটনা। বিশেষ করে এপ্রিল-জুলাই এই সময়টায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল দেয়ার কারণে এই সময়ে আত্মহত্যার ঘটনা বেশি ঘটে।

আত্মহত্যা যেমন হচ্ছে, তেমনি এ নিয়ে লেখালেখিও হচ্ছে বিস্তর। ফেসবুক, পত্রিকা সব মাধ্যমেই সকলে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা করায় নিরুৎসাহিত করার জন্য পোস্ট দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অবিভাবককে বলছেন খারাপ রেজাল্ট করলে শিক্ষার্থীদের চাপ না দিতে।

বিষয়টা ভাল । কিন্তু একটা জিনিস কি লক্ষ্য করেছেন শিক্ষার্থীর অবিভাবক কখন শিক্ষার্থীদের চাপ দেয়?

ধরুন একজন শিক্ষার্থী খারাপ রেজাল্ট করলো তার পরিবার সেটি মেনে নিলো। এবং শিক্ষার্থীকে পরবর্তীতে ভাল করার উৎসাহ দিলো। কিন্তু তখনি আশেপাশের লোকজন, প্রতিবেশী, আত্মীয় সকলে সেই ফলাফল শুনে তিরস্কার করে, অবিভাবক কে তাচ্ছিল্য করে। তখনি অবিভাবকদের মাঝে হীনমন্যতার দেখা দেয়। আর ঠিক তখনি তারা ছেলে মেয়েদের উপর চাপ প্রয়োগ করে বা তাদের তাচ্ছিল্য করে।

কিন্তু লক্ষনীয় বিষয় যে বা যারা ফেসবুক বা অন্যান্য মাধ্যমে এসব বিষয়ে লেখালেখি করছে তারাই আবার তার প্রতিবেশীর ছেলে বা মেয়ের খারাপ রেজাল্ট নিয়ে তাচ্ছিল্য করছে।

যে বা যারা বলছে জিপিএ-৫ কিছুই না, তারাই আবার তাদের ছেলে মেয়ে জিপিএ ৫ পেলে ফলাও করে তা প্রচার করছে।

এতে করে এটা দেখে শিক্ষার্থী বা অবিভাবক এর মনে কষ্টের অনুভূতি হচ্ছে। অবিভাবকগণ এ কষ্ট সহ্য করতে না পেরে ছেলে মেয়েদের দোষারোপ করছে। আবার সেই ছেলে-মেয়ের কোমল মনে পরিবার ও পারিপার্শ্বিক চাপ অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করছে । এবং এটার শেষ পরিণতি দাড়াচ্ছে আত্মহত্যা।

যদি সত্যিই আমরা এসব আত্মহত্যা বন্ধ করতে চাই তাহলে সবার প্রথমে আমাদের নিজেদের পাল্টাতে হবে। মানুষকে দেখানোর অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। নিজেদের দৃৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে।

পরীক্ষার ফলাফল কে বেশি গুরুত্ব দিয়ে নয়, শিক্ষার্থীর নৈতিক মূল্যবোধ এবং তার মেধা কে গুরুত্ব দিতে হবে।

কিন্তু এখানে আরেকটি বিষয় চলে আসে। তা হলো ভাল ফলাফল না করলে ভবিষ্যতে ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া সম্ভব হয় না। কিংবা ভাল চাকুরী পাওয়া হয় দুষ্কর।

তাই এসব বিষয়েও পরিবর্তন আনতে হবে। অর্থাৎ পরীক্ষার ফলাফল কে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও চাকুরীর ক্ষেত্রে প্রধান যোগ্যতা হিসেবে না ধরে শিক্ষার্থীর মেধা ও দক্ষতা কে প্রধান যোগ্যতা হিসেবে ধরা উচিৎ।

তবেই এসব আত্মহত্যার মতো অনাকাংখিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *