নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলা ও কিছু কথা - হাতেখড়ি

নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলা ও কিছু কথা

মোঃ হাসান মাহমুদ:

এই যে নিউজিল্যান্ডে মসজিদে নির্লজ্জ হামলা চালিয়েছে এক অষ্টোলিয়ান খ্রিষ্টান যুবক সে কি জঙ্গি নয়। নাকি সে অমুসলিম বলে শুধু একজন হামলাকারী বলেই খ্যাত থাকবে। এতে আসবে না তার জাতীর নাম, কারণ ও মুসলিম নয় খ্রিষ্টান। আমারতো মনে হয় সে জঙ্গির কমান্ডারের সিনিয়র ওস্তাদ। তথাকথিত জঙ্গিরা ওতো এমন  নির্লজ্জ হামলা করেনি। জঙ্গি আসলে কারা?  প্রকৃত্য পক্ষে জঙ্গি আসলে কারা সেটা নিয়ে আমি নিজের মন্তব্য বলার আগে ইতিহাস থেকে প্রমান করার চেষ্টা করি চলুন। আমি এমন কিছু প্রমান দিব যা সর্বজন জ্ঞাত। যা অস্বীকার করার কোন উপায়ই নেই।

‘আডলফ হিটলার’ অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত জার্মান রাজনীতিবিদ যিনি ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা। যেনি কিনা ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত জার্মানির চ্যান্সেলর এবং ১৯৩৪ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সে দেশের ফিউরারছিলেন। ভাইমার প্রজাতন্ত্রের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি এই হিটলার। হিটলার প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সৈনিক থেকে কুটনীতির মাধ্যমে ভাইমার প্রজাতন্ত্রে নাৎসিপার্টির নেতা হন। অভ্যুত্থান করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে জেলে যেগে হয়। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে মোহনীয় বক্তৃতার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদ, ভিন্ন ধর্ম বিদ্বেষ ও সমাজতন্ত্র বিরোধিতা, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস ছড়াতে থাকেন এই উগ্রবাদি খ্রিষ্টান নেতা। হিটলার  সামরিক বাহিনীকে তার মতই উগ্র ও  মনুষ্যত্বহীন করে  সব অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করেছিল এবং সর্বোপরি একটি সন্ত্রাস, সমগ্রতাবাদী ও ফ্যাসিবাদী একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল। হিটলার এমন একটি বৈদেশিক নীতি গ্রহণ করেন যা ছিলো তার উগ্র ও মনুষ্যত্ব হীনতার বর্হিপ্রকাশ। যাতে সকল “লেবেনস্রাউম” (জীবন্ত অঞ্চল) দখল করে নেয়ার কথা বলা হয়। ১৯৩৯ সালে জার্মানরা পোল্যান্ড অধিকার করে এবং এভাবেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের অক্ষ শক্তি তথা জার্মান নেতৃত্বাধীন শক্তি মহাদেশীয় ইউরোপ এবং আফ্রিকা ও এশিয়ার বেশ কিছু অঞ্চল দখল করে। কিন্তু অবশেষে মিত্র শক্তি বিজয় লাভ করে। ১৯৪৫ সালের মধ্যে জার্মানি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। হিটলারের রাজ্য জয়,  নিম্ন ধর্মীয় চিন্তা, বর্ণবাদী আগ্রাসনের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়। ৬০ লক্ষ ইহুদিকে পরিকল্পনামাফিক হত্যা করে এই হিটলার। যা ইতিহাসে হলোকস্ট নামে পরিচিত। হিটলার এতই নিন্ম মানসিকতার মানুষ অর্থাৎ অমানুষ ছিলো যে যেনি বিয়ের ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগে স্ত্রীকে আত্মহত্যা ককরতে বাধ্য করে এবং পরে নিজেও আত্মহত্যা করে। ইতিহাস সাক্ষী কোন মুসলিম এত মানুষ হত্যা করেন নি, যা একজন খ্রিষ্টান নেতা করেছে। যে ১১ মিলিয়ন মৃত্য সংগঠিত হয়েছিল যার অর্ধেকই ছিল ইহুদি।হিটলার এই গণহত্যা নিকৃষ্ট সব পদ্ধতিকে সংগঠিত করে , যার মধ্যে সরাসরি হত্যা, কারাগারে বন্দী অবস্থায় হত্যা, অনাহারে হত্যা, অতিরিক্ত কষ্টসাধ্য কাজের বোঝা চাপিয়ে হত্যা এবং হিটলারের কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্পে নিয়ে হত্যা।উল্লেখ্য যে, সে সময় জার্মানিকে বিবেচনা করা হত সবচেয়ে শিক্ষিত ও সংস্কৃতিবান সমাজ হিসাবে।

যোসেফ স্ত্যালিনকে ধরা হয় বিংশ শতাব্দীর কুখ্যাত গনহত্যাকারী হিসেবে, যে  ২০ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে এবং ১৪.৫ মিলিয়ন মানুষ অসুস্থ হয়ে ধুকে ধুকে মেরেছে। যে একজন খ্রিষ্টান  ছিলো। স্ত্যালীন সক্ষম হয়েছিলেন নিজের জাতিকে টুকরো টুকরো করতে। স্ত্যালীনের শাসনামলে ঠিক কতজনকে হত্যা করা হয় তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও ধারণা করা হয় প্রায় কুড়ি বা ২০ মিলিয়ন মানুষকে হত্যা করেন এই গণহত্যাকারী। এই কুড়ি মিলিয়নের মধ্যে দুই মিলিয়ন হলো দুর্ভিক্ষ পিড়িত ইউক্রেনিয়ান কৃষক। স্ত্যালীন ১৯৩৭ সালে তাঁর কুখ্যাত `০০৪৪৭’ অধ্যাদেশ দ্বারা অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছিলেন সামাজিক ভাবে ক্ষতিকর মানুষ আখ্যা দিয়ে।  এছাড়াও তিনি রাশিয়ান আর্মির সেনা সদস্য এবং বুদ্ধিজীবিদের পাঠিয়েছিলেন নির্বাসনে এবং হত্যা করেছিলেন নির্বিচারে। স্ত্যালীন এর কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ মৃত্যু বরণ করেছিলেন এবং কোটি কোটি মানুষ দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সে ও ছিলো অমুসলীম।

১৯৪৫ সালের ৬ এবং ৯ আগস্ট পৃথিবীর ইতিহাসে সবচে দুঃখজনক দুটি দিন যখন জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকি শহর দুটি সম্পূর্ণ রূপে ধংষ প্রাপ্ত হয়। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমা শহরে ফেলা হয় প্রথম আনবিক বোমা। এই বিস্ফোরণ কেড়ে নেয় প্রায় দুই লক্ষ প্রান এবং অনেকের কোনো হদিসই পাওয়া যায়নি। যার ঠিক দুই দিন পরেই অর্থাৎ ৯ আগস্ট নাগাসাকির একটি শিপইয়ার্ড এর উপর ফেলা হয় ২০ কিলোটন ক্ষমতা সম্পন্ন বোমা যেদিন প্রায় ৭০ হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হয়।যা কোন রাজনৈতিক কারণ ব্যতিত শুধুমাত্র স্বপ্রণোদিত ভাবে ধর্মীয় বিভেদের কারণে ঘঠনাটি সংগঠিত হয়। এই হত্যা কান্ড ও কোনো মুসলীম ধারা সংগঠিত হয়নি।

চীনে কমিউনিস্টরা ক্ষমতায় আসে ১৯৪৯ সালে এবং তারপর পরবর্তী দশক গুলোতে কমিউনিস্ট চায়নাতে প্রায় ৪৫ থেকে ৭০ মিলিয়ন মানুষ মারা গিয়েছিলো। মাও সে তুং সংগঠিত করেছিলো। মাও সে তুং দ্য গ্রেট লীপ ফরওয়ার্ড এর মাধ্যমে কৃষির আধুনিকায়ন  এবং সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর নামে এক গণহত্যার নীল নকঁশা তৈরি করে। যার ফলশ্রুতিতে  ১৯৫৮ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত্য দুর্ভিক্ষ্য দেখা দেয়। এতে অনেক কৃষক এবং ভূমি মালিক অনাহারে মৃত্যু বরণ করেন যা কিনা পরবর্তিতে গণহত্যার আকার ধারণ করে, কারণ মাও সে তুং এই প্রক্রিয়াকে সচল রাখেন এত বড় সর্বনাশ সত্বেও। অপরদিকে সাংস্কৃতিক বিপ্লব সরকার বিরোধী কর্মকান্ডকে তরান্বিত করতে বিশেষ ভুমিকা রাখে যা কিনা লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ডেকে আনে আর অসংখ্য মানুষ বন্দিত্ব গ্রহণ করে। এই অমুসলীম বোদ্ধ নেতা মাও সে তুং ভিবিন্ন নিকৃষ্ট উপায়ে  ১৪ থেকে ২০ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে।

১৯৭৫ সালে খেমার রুজ বাহিনী কম্বোডিয়ার সরকার উৎখাতের মাধ্যমে কমিনিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠা করে সাবেক শাসন ব্যবস্থার সাথে যারা যুক্ত ব্যক্তিদের দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে হত্যা করে।  এই তালিকায় সাবেক সরকারের সদস্য, সেনা সদস্য, সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবী এমন কি সাধারণ মানুষ যারা এদের ক্ষমতা দখলকে ভালো চোখে দেখত না তারা সবাই ছিলেন। ধারণা করা হয়, স্বল্পস্থায়ী এই গণহত্যায় হতাহতের সংখ্যা দুই মিলিয়নের কম ছিল না, যা কম্বোডিয়ার জনসংখ্যার কুড়ি ভাগ।

১৯৯২ সালের এপ্রিলে যুগোস্লাভিয়া প্রজাতন্ত্রের বসনিয়া হার্জেগোভিনা সরকার যুগোস্লাভিয়া থেকে তাদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে।  স্বাধীনতা ঘোষণার পরবর্তী কয়েক বছর বসনিয়ার সার্ব বাহিনী যুগোস্লাভিয়ার সার্ব অধ্যুষিত সেনাবাহিনীর সহায়তায় বসনিয়ার বেসামরিক বসনিয়াক মুসলিম এবং ক্রোয়েশীয় নাগরিকদের লক্ষ্য করে বর্বর হত্যাযজ্ঞ চালায়। এর ফলে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত্য এক লক্ষ মানুষ নিহত হয় যার আশি ভাগই ছিল বসনিয়ান মুসলমান। সার্বিয়ানরা শুধু হত্যা করেই খান্ত হয়নি, তাদের দ্বারা ধর্ষিত হয় অসংখ্য নারী এবং শিশু।

রুয়ান্ডার গণহত্যা কোনো রাজনৈতিক কারণে হয়নি। উপজাতীয় বিভেদের ফলে সংগঠিত এই গণহত্যায় মৃত্যু বরণ করে ৫ লাখ থেকে ১ মিলিয়ন মানুষ। সংখ্যালঘু তুসি সম্প্রদায় শতাব্দী ধরে তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে আরেকটি উপজাতি সম্প্রদায় হুতু জাতি গোষ্ঠিকে দমিয়ে রেখে দখল করে রেখেছিল দেশটির শাসনভার।  ১৯৬২ সালে  হুতু সম্প্রদায় বিদ্রোহ শুরু করে ক্ষমতাশীল তুসি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে। চরম উত্তেজনা এবং বিদ্রোহ যুদ্ধে রুপান্তরিত হয়, যখন হুতু প্রেসিডেন্ট রহস্যজনক ভাবে ১৯৯৪ সালের এপ্রিল মাসে একটি বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন। এটা ছিল হুতু সম্প্রদায় কর্তৃক একটি রক্তাক্ত প্রতিশোধ তুসিদের বিরুদ্ধে। হুতু নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে এই গণহত্যা সম্পাদিত হয়েছিল তাই গণহত্যার সঠিক সংখ্যা নিরুপন করা সম্ভব হয়নি। গবেষকদের মতে, হুতু প্রেসিডেন্টের হত্যার প্রতিশোধ নিতে এই গণহত্যা সরাসরি রুয়ান্ডার সেনাবাহিনীর উৎসাহে এবং সরকারের পূর্ণ সমর্থনে হুতু মিলিশিয়া দ্বারা পরিচালিত হয় যা তাদেরকে এই নিন্দনীয় হত্যাকান্ডের জন্য সরাসরি দোষী সব্যস্ত করে।

খ্রিষ্টান ইতালির সর্বাধিনায়ক মুসলিনী যেনি ১৯২২ সাল থেকে ১৯৪৩ সালে তার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পুর্ব পর্যন্ত সমগ্র রাষ্ট্রের ক্ষমতাধর ছিলেন। এই খ্রিষ্টান নেতা   ৪ লাখ মানুষ হত্যা করে।

সনাতন ধর্মাবলম্বী (হিন্দু) অশোকা (কালিঙ্গা বেটল) ১০০ হাজার মানুষ হত্যা করেছে। যে মুসলিম ছিলো না।

খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী নেতা জর্জ বুশ  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩ তম রাষ্ট্রপতি যিনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। করা। ২০০৩ সালের মার্চ মাসে বুশ ইরাক দখলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন সেদেশে অবৈধ গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে যা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ঘোষণা ১৪৪১-এর পরিপন্থী। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অজুহাত দেখিয়ে ইরাক দখল করলেও সেখানে কোন গণবিধ্বংসী অস্ত্র পাওয়া যায়নি। তার ঘোষণা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।  ইরাকে ওও আফগানিস্থানে  সে অন্যায় ভাবে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে।

তথাকথিত শান্তিতে নোবেল বিজয়ী গণমাধ্যমের চিত্রায়ণে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ‘মূর্ত প্রতীক’  মিয়ানমারের বৌদ্ধধর্মাবলম্বী নেত্রী অং সান সু চি যে কিনা লাখো রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যা করেছে। দেশ ছাড়া করেছে লাখ লাখ মানুষকে। সেও মুসলিম নয়। একজন মানবধিকারের নেত্রী।

আর হয়তো বলার দরকার নেই। এমন ছোট বড় হাজারো তথ্য প্রমান ইতিহাসে আছে। ইতিহাস স্বাক্ষী পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে বড় বড় গনহত্যা করেছে অ মুসলিমরা আর এরাই দিন রাত গণতন্ত্র ও শান্তির কথা জপে মুখে ফেনা তুলে। এরাই পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে অশান্তির দাবালন জ্বালায়। আর এরাই আবার মুসলিমদের জঙ্গি বলে আখ্যা দেয়। আসলে এরা নিজেরাই জঙ্গি।
সন্ত্রাসী ও অমানবিক কার্যকলাপের সাথে মুসলমানরা কখনো জড়িত ছিলো না, এখনো নেই। মুসলিমরা জঙ্গি নয়। ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। যারা ইসলামি শিক্ষাকে বিষ বৃক্ষ ও মুসলিমদের জঙ্গি বলে দাবি করে তারা হয়তো পাগল নয়তো বদ্ধ উন্মাদ। সোজা কথা ও মহা সত্যি এটাই যে মুসলিমদের কোনো জঙ্গি সংগঠন বা জঙ্গিদের সাথে সংশ্লিষ্ঠতা নেই। আসলে মুসলিমদের জঙ্গি আখ্যা দেওয়ার সবচেয়ে বড় অবদান মিড়িয়ার। যখন খারাপ কোনো গঠনা সংগঠিত হয় তখন তারা প্রচার করে মুসলিমদের নামে। নাটক সিনেমা গুলোতে খারাপ চরিত্রে মুসলিমদের দেওয়া হয়। এটা আসলে পরিকল্পনা মাফিক। কাফের মুসরিকদের মুসলীমদের হেয় করার নীল নকঁশা।

খ্রিষ্টান হিটলার  ৬০ লক্ষ ইহুদি হত্যা করারর পরেও  মিডিয়া একবারও তাকে বলেনি সে খৃষ্টান টেররিস্ট। জোসেফ স্ট্যালিন ২০ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে এবং ১৪.৫ মিলিয়ন মানুষ অসুস্থ হয়ে ধুকে ধুকে মারা গেছে।  মিডিয়া একবারও তাকে বলেনি সে খৃষ্টান টেররিস্ট। বৌদ্ধ মাও সে তুং ১৪ থেকে ২০ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে। মিডিয়া একবারও তাকে বলেনি সে বৌদ্ধ টেররিস্ট। খ্রিষ্টান মুসলিনী (ইটালী) ৪ লাখ মানুষ হত্যা করেছে। অন্ধ মিডিয়া একবারো বলে নাই খৃষ্টান টেররিস্ট। সনাতন ধর্মী হিন্দু আশোকা (কালিঙ্গা বেটল) ১০০ হাজার মানুষ হত্যা করেছে। মিডিয়া একবারও তাকে বলেনি সে হিন্দু টেররিস্ট। জর্জ বুশ ইরাকে, আফগানিস্থানে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে।মিডিয়া তো বলে নাই খৃষ্টান টেররিস্ট।এখনো মায়ানমারে প্রতিদিন মুসলিম রোহিঙ্গাদের খুন , ধর্ষণ , লুটপাট, উচ্ছেদ করছে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেত্রী সূচি। তবুও কোনো মিডিয়া একবারও বলছে  না বৌদ্ধরা টেরোরিস্ট। পৃথিবীর যত বড় বড় অন্যায় অবিচার গুলোতে মুসলিমদের সংশ্লিষ্টতা নেই। তবুও কেন মুসলিমদের জঙ্গি বলে আখ্যা দেওয়া হবে। প্রকৃত্য পক্ষ জঙ্গি আসলে কারা?

যারা অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কারের পর নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য ২০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসীকে হত্যা করেছিলো তারা নয় কি? তারাতো  মুসলিম ছিলো না। যারা হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা নিক্ষেপ করেছিলো তারা জঙ্গির নয় কি? তারা কি মুসলিম ছিলো? আমেরিকা আবিষ্কারের পর নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য উত্তর আমেরিকাতে ১০০ মিলিয়ন এবং দক্ষিন আমেরিকাতে ৫০ মিলিয়ন রেড ইন্ডিয়ানকে হত্যা করে তারা কি জঙ্গি নয়, সন্ত্রাস নয়?  তারা কি মুসলিম ছিলো?  যারা ১৮০ মিলিয়ন আফ্রিকান কালো মানুষকে কৃতদাস বানিয়ে আমেরিকা নিয়ে গিয়েছিলো, যাদের ৮৮ ভাগ সমুদ্রেই মারা গিয়েছিলো এবং তাদের মৃতদেহকে আটলান্টিক মহাসাগরে নিক্ষেপ করা হয়েছিলো তারা জঙ্গির চাইতে কম কিছু? কই তারাও তো মুসলিম নয়।

সন্ত্রাস ও অমানবিকতা, অন্যায়-অত্যাচার, হত্যা, খুম খুন ধর্ষনের মতো নির্লজ্জ ও নিন্মমূখি কার্যকলাপের সাথে মুসলমানরা কখনো জড়িত ছিলো না। এখন ও নেই। যারা মুসলিমদের জঙ্গি বলে সন্ত্রাস বলে তারা চরম মিথ্যাবাদী, নির্লজ্জ, মাতাল ও উন্মাদ। নিউজিল্যান্ডের  মুসজিদে হামলা থেকে আবারো প্রমানিত হয় জঙ্গি আসলে কারা? হে মিথ্যাবাদী ভন্ড প্রতারক মাতাল, মুসলিমদের জঙ্গি বলতে চাইলে প্রমান দিয়ে বলো যদি তুমি মা- বাবার বৈধ্য সন্তান হও।

হে মিথ্যাবাদী ভন্ড, জঙ্গি বল কারে?
কেন মিথ্যা বলে বেশ্যা বানাও, নিজের বাবা মারে।
যদি তুমি বৈধ্য হও, নিয়ে এসো প্রমান
চির অম্লান শান্তির ধর্ম ইসলাম ও তার সম্মান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *