নাটোরের বড়ভিটা ও মল্লিকহাটি বিল পাখিদের আস্থার নীড় - হাতেখড়ি

নাটোরের বড়ভিটা ও মল্লিকহাটি বিল পাখিদের আস্থার নীড়

তাপস কুমার, নাটোর:

পাখীর কিচির মিচির ডাক, মুক্ত আকাশে পাখীর ডানা মেলে উড়ে চলা, খাদ্যের সন্ধানে যেখানে সেখানে পাখীর অবাধ বিচরণ দেখতে কার না ভাল লাগে! আর অতিথি বা পরিযায়ী পাখি হলে তো কোন কথাই নেই। এমনই লক্ষ লক্ষ অতিথি পাখির দেখা মেলে এখন বড়ভিটা বিলে।

নাটোর শহরের অদূরে পিটিআই মোড় লগ্ন বড় হরিশপুর ইউনিয়নের বড়ভিটা বিল এখন লক্ষ লক্ষ পারিযায়ী পাখির আবাসস্থল। এর বিপরীত দিকে মল্লিকহাটি বিলে চিত্রও ঠিক একই রকম। অবাধে বিচরণ করে এসব অতিথি পাখি প্রকৃতির শোভা বর্ধনসহ ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে নীরবে। প্রতিবছর এখানে অতিথি পাখির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। নাটোর জেলায় হাওড়-বাওর না থাকলেও রয়েছে ছোট বড় বেশ কয়েকটি বিল।

 

এখানে অতিথি পাখীদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শীতের সময় প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ অতিথি পাখির দেখা মেলে এইসব বিলগুলোতে। মূলত সোল্লি, বদর, লালমোন, শামুকখোল, বক, বালিহাঁস, কাইয়ুমসহ নানা প্রজাতির পাখির কিচির মিচির ডাকে মুখরিত থাকে বড়ভিটার এই বিলের সর্বত্র। বিলের দেশী ছোট ছোট মাছই মূলত এসব পাখীর প্রধান খাদ্য। এখানে যারা পুকুর ও খালে মাছ চাষ করেন তারা এই সব অতিথি পাখীদের অবাধ বিচরনে ও সংরক্ষনে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। বিগত ৩/৪ বছর আগেও নাটোর শহরের পাদদেশে অবস্থিত বড়ভিটা বিলে এত পাখি দেখা যায়নি। বর্তমানে বড়ভিটা ও মল্লিকহাটি বিলে বিচরণ করা পারিযায়ী পাখির সংখ্যা ৫-৬ লক্ষ হবে বলে ধারনা স্থানীয় পাখী প্রেমীদের। চলতি বছর হঠাৎ করে এখানে বেড়েছে এসব অতিথি পাখীর সংখ্যা। আর এখানে প্রতিদিনই সকাল- বিকাল অনেক দর্শনার্থীই আসেন এই পারিযায়ী পাখীর কলতান, মুক্ত নীলাকাশে রাশি রাশি পাখির ডানা মেলে উড়ে চলা, আবার বিলের পানিতে নামা, খাবার সন্ধানের মোহময় দৃশ্য উপভোগ করতে। মনের অজান্তেই কিংবা অতি উৎসাহ আর ভাল লাগায় পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে অতিথি পাখীর অবাধ বিচরণের মনোমুগ্ধকর, মোহময় দৃশ্য ধারনের লোভ সম্বরণ করতে পারেন না দর্শনার্থীরা।

বিকালে এখানে এসে অনেককেই কোলাহল মুক্ত, প্রাকৃতিক মুক্ত পরিবেশে অতিথি পাখীর প্রেমে হাবুডুবু খেতে দেখা যায়। এদিকে সংবাদ পেয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ শাহরিয়াজ বড়ভিটার এই বিলের অতিথি পাখী পরিদর্শনে যান। এসময় একসঙ্গে লক্ষ লক্ষ পাখী একসাথে দেখে উচ্ছসিত, রোমাঞ্চিত হয়েছেন তিনি। তিনি নিজে মোবাইল ফোনে নীলাকাশে পাখীর অবাধ বিচরনের দৃশ্য ধারন করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সেই ভিডিও ও ছবি আপলোড করেন।

সেখানে অবস্থানকালেই সাংবাদিকদের সামনে তিনি বড়ভিটা বিলকে অতিথি পাখীর অভয়াশ্রম ঘোষণা করেন। সেই সাথে এখানে পাখীর অভয়ারণ্য তৈরী ও সংরক্ষনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ নেবেন বলে জানান। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের সফরঙ্গী অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাজ্জাকুল ইসলাম আবেগ- আপ্লুত কন্ঠে জানান, তিনি একসঙ্গে এত পাখী কখনও দেখেননি। নিজের ফেসবুক পেজে এ্যামাইজিং বলে অভিহিত করে একটি ভিডিও পোস্ট দিয়েছেন। সামাদ নামে এখানকার এক মাছ চাষী জানান, এখানে এইসব পরিযায়ী পাখি সকাল বিকাল এখানে বিচরণ করে। এই পাখীরা মূলত দেশী প্রজাতির ছোট ছোট মাছ খায়। আমাদের মাছ চাষে লোকসান হলেও আমরা এইসব পাখীরা যাতে এখানে অবাধে বিচরণ করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখি। এর আগে অনেক শিকারীরা বন্দুক, জাল, ফাঁদ দিয়ে এইসব অতিথি পাখী শিকার করতে এসেছে। কিন্তু আমরা পাখীর শিকার করতে দেয়নি। এজন্য শিকারীদের সাথে আমাদের ঝামেলা হয়েছে, অনেক হুমকির সম্মুখীন হতে হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসন যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে এই অতিথি পাখী সংরক্ষনে আর কোন সমস্যা থাকতো না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *