টাইগারদের দাপুটে জয়

রোববার ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশকে নিয়ে ডোবার বাসনা ব্যক্তি করেছিলেন আফগান অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব। কিন্তু বাংলাদেশকে ডোবাবে কি, সাউদাম্পটনে বাংলাদেশের কাছে ৬২ রানে হেরে আরো অতলে ডুবল আফগানিস্তান।

এই সাউদাম্পটনেই ভারতের সাথে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল আফগানিস্তান। সেই ম্যাচের অনুপ্রেরণায় কিনা, বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের ফেভারিট ভাবা শুরু করে দিয়েছিল আফগানরা। ভেবেছিল আসরের প্রথম জয় হয়তো সোমবারই তারা তুলে নেবে।

কিন্তু আফগানদের হিসেবে সামান্য ভুল ছিল। রশিদ খান-মোহাম্মদ নবীরা যেখানে মরিয়া অন্তত একটি জয়ের খোঁজে। সেখানে বাংলাদেশের দৃষ্টি সেমি ফাইনাল। দুই দলের পার্থক্য এইখানেই। সেমি ফাইনালের স্বপ্ন তো দুঃস্বপ্নেও দেখছে না আফগানরা।

অথচ তারাই কিনা বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের আশায় বুঁদ। হ্যাঁ, তাদের রশিদ খানের মতো বিশ্বমানের স্পিনার আছে। আছেন মুজিব উর রহমানের মতো স্পিনারও। কিন্তু বাংলাদেশেরও তো সাকিব আল হাসান আছেন। যিনি এবারের আসরে প্রতিনিয়ত ছাড়িয়ে যাচ্ছেন নিজেকে। গড়ছেন ইতিহাস।

সাকিবের স্পিনের বিষেয়ই নীল হয়ে গেল পুরো আফগানিস্তান। বিশ্বসেরা এই অল রাউন্ডারের অনেক কীর্তির এই ম্যাচে ৬২ রানের জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। টিকিয়ে রেখেছে সেমি ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন।

এদিন প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৬২ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ৪৭ ওভারে ২০০ রান করতেই গুটিয়ে গিয়েছে আফগানরা।

এদিন আফগানিস্তানের ইনিংসের গল্প কেবল সাকিবের। তার কীর্তিময় ম্যাচে ধরাশায়ী আফগানরা। ব্যাট হাতে করেছিলেন ৫২ রান। আর বল হাতে তুলে নিলেন ৫ উইকেট।

বিশ্বকাপে এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি বোলার ম্যাচে ৫ উইকেট নিলেন। ম্যাচে ৫০ রান ও ৫ উইকেট নেওয়ার মাত্র দ্বিতীয় বিশ্বকাপ রেকর্ড এটি। ২০১১ বিশ্বকাপে এই ডাবল করে দেখিয়েছিলেন যুবরাজ সিং।

এদিন ১০ ওভার করে ১ মেডেনসহ সাকিব রান দিয়েছেন ২৯। তার প্রথম শিকার রহমত শাহ। আফগানদের ওপেনিং জুটি যখন প্রায় থিতু হয়ে বসছিল, তখনই আঘাত হানেন সাকিব। তার আগে মাশরাফি-মোস্তাফিজ-সাইফউদ্দীনরা এই জুটি ভাঙতে ব্যর্থ হন।

ইনিংসের ১১তম ওভারে সাকিবের বিশ্বস্ত হাতে বল তুলে দেন মাশরাফি। অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিতে মাত্র ৫ বল সময় নেন সাকিব। রহমতকে মিড অনে তামিমের ক্যাচে পরিণত করে দলকে এনে দেন প্রথম ব্রেক থ্রু।

মোসাদ্দেক হোসেনের বলে মুশফিকের দুর্দান্ত স্টাম্পিংয়ে হাশমতুল্লাহ শহীদিকে (১১) হারায় আফগানিস্তান।

এরপর আবার সাকিব উপাখ্যান। উইকেটে জেঁকে বসা গুলবাদিন নাইবকে (৪৭) লিটনের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। ওই ওভারেই আফগানিস্তানের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নবীকে (০) বোল্ড করেন সাকিব।

ওই স্পেলেই এক ওভার পর আসগর আফগানকে (২) নিজের চতুর্থ শিকারের পরিণত করেন সাকিব। এই ফাঁকে ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে ১ হাজার রান ও ৩০ উইকেটের ‘ডাবল’ গড়েন সাকিব। এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপে ১ হাজার রানের কীর্তি গড়ের তিনি। সেই সাথে ডেভিড ওয়ার্নারের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন আসরের শীর্ষ রান সংগ্রাহকের মুকুট।

এরই মধ্যে মোটামুটি আফগানদের মিডল অর্ডার গুড়িয়ে যায়। বাংলাদেশের জয় তখন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। আফগানিস্তান ষষ্ঠ উইকেট হারায় রান আউটে। ইকরাম আলী খিলকে (১১) দারুণ এক থ্রোয়ে রান আউট করেন লিটন দাস।

এরপর আবার সাকিব কীর্তি। ৪৪তম ওভার করতে এসে নাজিবুল্লাহ জাদরানকে (২৩) আউট করে পূর্ণ করেন নিজের ৫ উইকেট। এরপর রশিদ খান (২) ও দৌলত জাদরানকে (০) আউট করে উইকেটের খাতা খোলেন মোস্তাফিজুর রহমান। আর মুজিবুর রহমানকে বোল্ড করে আফগান ইনিংসের ফুলস্টপ টেনে দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন।

৬ নম্বরে নামা সামিউল্লাহ শিনওয়ারি শেষ পর্যন্ত ৪৯* রানে অপরাজিত থেকে দলের পরাজয় দৃশ্য দেখেন।

এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের পাঁচে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। ৭ ম্যাচে ৩ জয়ে টাইগারদের পয়েন্ট এখন ৭। বিপরীতে আফগানিস্তানের এটি সপ্তম পরাজয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *