ঝরে যাওয়া তারা - হাতেখড়ি

ঝরে যাওয়া তারা

জেসমিন খাতুন:
জাদুর শহর ঢাকা, প্রাণের শহর ঢাকা। ঢাকায় রোজ কত স্বপ্ন নিয়ে মানুষ আসে, কত স্বপ্নভঙ্গ মানুষ ঢাকা ছেড়ে চলে যায় তার হিসেব থাকেনা কারও কাছে। এই স্বপ্নচারী বা স্বপ্নভঙ্গ মানুষের না, তাদের তবুও স্বপ্নভেঙ্গে নীড়ে ফেরার উপায় থাকে। যাদের স্বপ্ন দেখার সাহস জন্মায় না, যাদের ফিরে যাওয়ার মতো থাকেনা কোনো আশ্রয়, যারা পথেই বেড়ে ওঠে, স্বজন থাকলেও যাদের অনেকেই জানেনা পিতামাতা, স্বজন কিংবা আপন জন বলতে কি বুঝায়, তাদের ভালবাসা অনুভব করতে কেমন বোধ হয়।
যে সব শিশু পিতৃ কিংবা মাতৃহীন বা উভয়হীন, মা তালাকপ্রাপ্ত কিংবা বাবা দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত, মাদকাসক্ত কিংবা পিতা মাতা সংসার চালাতে পারছে না সেই সব ঘরের বাহিরে চলে আসে রাস্তায় বসবাস শুরু করে তাহাকে পথ শিশু বলে। আমাদের দেশের বেশির ভাগ লোকই দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে। এরা সঠিক ভাবে শিশুদেরকে গড়ে তুলতে পারে না। তাদের সংসারে অভাব অনটন লেগেই থকে। তারা ছেলে-মেয়েদেরকে ঠিকমত খাবার ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার/সুযোগ-সুবিধা প্রদানে ব্যার্থ হয়।
ছিন্নমূল এসব শিশুরাই তখন জীবন সংগ্রামে নেমে বিভিন্ন কাজ-কর্মে জড়িয়ে পড়ে। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে কুলি, হকার, ফুল বিক্রেতা, আবর্জনা সংগ্রাহক, হোটেল শ্রমিক, বুনন কর্মী, মাদক বাহক, ঝালাই কারখানার শ্রমিক ইত্যাদি। তাছাড়া বিভিন্ন ঝুকিপূর্ণ কাজে তাদেরকে নিয়োজিত করা হয়।
আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তারা পথশিশু, জাদুর শহরের নিয়ন বাতির নিচে শক্ত কনক্রিটের ওপর মাথা রেখে জীর্ণ গাত্রখানি ফেলে ঘুমোয় ক্ষুধার্ত ছিন্নমূল শিশুরা। ছিন্নমূল শিশুরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনাদরে অবহেলায় মানুষ হচ্ছে। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এ দেশের দরিদ্র ও অসহায় প্রায় শিশু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *