চিকিৎসার দ্বার বন্ধই থাকে চরবাসীদের জন্য

মো. আহসান হাবিব মারুফ, রংপুর:
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত সময় ১০ হাজার ৭২৩টি ক্লিনিক চালু করা হয়। বর্তমানে দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে ১৩ হাজার ৭০৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে।

মূলত গ্রামীন মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।

কিন্তু লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলায় এই রূপ ভিন্ন। উপজেলার ৭নং ইউপি উত্তর ডাউয়াবাড়ী কমিউনিটি ক্লিনিক অধিকাংশ সময়ই বন্ধ থাকে।

নিয়ম অনুযায়ী শুক্রবার ব্যতীত সপ্তাহে ৬ দিন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার কমিউনিটি ক্লিনিকে উপস্থিত থেকে সেবা প্রদান করবেন। স্বাস্থ্যকর্মী এবং পরিবার কল্যাণ সহকারীগণ সপ্তাহে ৩ দিন করে কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা দিবেন।

কিন্তু সেখানে দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কমিউনিটি ক্লিনিকটির মূল দরজা তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায় অধিকাংশ সময়ই এই ক্লিনিক বন্ধ থাকে। মাঝে মাঝে একদিন খোলা হয় তাও কয়েক ঘন্টার জন্য।

তরিকুল ইসলাম নামে একজন ভূক্তভূগী জানায়,”অধিকাংশ সময় এটি বন্ধ থাকে, স্বাস্থ্য সেবা পেতে আমাদের অনেক বেগ পেতে হয়।”

মোশারফ নামে আরেকজন বলে,”কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে আমরা নিয়মিত কোনো স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছি না, এটি অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে। কোনো কর্মকর্তাকেও পাওয়া যায় না। আমরা আমাদের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে সন্ধিহান।”

এ ব্যাপারে হাতিবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো: রমজান আলি’র সাথে মুঠোফোনে কথা বলা হলে তিনি বলেন,” এমন কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে নেই । এ ব্যাপারে আমরা অবগত নই। শীঘ্রই আমরা প্রতিনিধি পাঠিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।”

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় শুধু উত্তর ডাউয়াবাড়ী কমিউনিটি ক্লিনিকই নয় চরাঞ্চলের প্রায় সব কমিউনিটি ক্লিনিকের অবস্থাও একই। তাই স্বাস্থ্য সেবা পেতে তাদের ছুটতে হয় উপজেলা কিংবা জেলা শহরের দিকে। চরাঞ্চলে যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল না থাকায় রোগীদের নিয়ে বিপাকে পড়েন সবাই।

তাই এর সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানান চরাঞ্চলবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *