গাইবান্ধায় সরস্বতী পূজা উদযাপিত - হাতেখড়ি

গাইবান্ধায় সরস্বতী পূজা উদযাপিত

মোঃ মেহেদী হাসান, গাইবান্ধা :

গাইবান্ধা শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসাবাড়ি-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পাড়ামহল্লার বিভিন্ন গলি ও মন্দিরে উৎসবমুখর পরিবেশে মাঘ মাসের শুক পরে পঞ্চমী তিথিতে এবার দুদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা।

প্রতিবারের ন্যায় এবারও গাইবান্ধার বিভিন্ন শিক্ষা  প্রতিষ্ঠান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকাংশ বাড়ি ও মন্দিরে বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূজারীরা দেবীর মন্ত্র উচ্চারণ করে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ, আরতি-আরাধনা, প্রসাদ বিতরণ ও নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাণী অর্চনা পালিত হয়।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকালে শুল্ক পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরের দিন ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন পাড়া মহল্লা, মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাড়িতে বাড়িতে দেবীর পূজা করা হয়। বিভিন্ন স্থান ভেদে সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় দেবীর বাণী বন্দনা। গাইবান্ধা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিবারের ন্যায় এবারও-ফুল বেলপাতা হাতে নিয়ে ‘ওঁ জয় জয় দেবি চরাচরসারে কুঁচযুগশোভিত মুক্তাহারে। বীনা রঞ্জিত পুস্তক হস্তে ভগবতি ভারতি দেবী নমহস্ততে। ওঁ সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যা কমলোচনে। বিশ্বরুপে বিশালি বিদ্যাং দেহি নমোহস্ততে।’ মন্ত্র বলে বিদ্যাদেবীর পায়ে নিবেদন করে আরাধনা করে। ছাত্রছাত্রীদের জন্য এ পূজা একটি অন্যতম পূজা। গাইবান্ধা সরকারি কলেজে সরস্বতী দেবীর পুজা করেন পুরোহিত সুকুমার চক্রবর্তী। পূজা শেষে ভক্তবৃন্দের মাঝে বিতরণ করা হয় প্রসাদ। এ বিষয়ে গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: মিজানুর রহমান জানান, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা। আমাদের এটা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানে হিন্দু ধর্মাবলম্বী যারা আছে তারা শিক্ষার মত একটি মহান কাজে ব্রত নিয়ে অধ্যয়ন করার কথা বলেন। ধর্মের মৌলিক বিষয় হচ্ছে নৈতিকতাবোধ জাগ্রত করা। নৈতিকতাবোধ যেন সবার জাগ্রত হয় এ প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেন তিনি।

কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর জীবন কুমার সাহা বলেন, প্রতিবছরের মত এবারো এ কলেজে পঞ্চমী তিথিতে বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজার পূজা অর্চনা করা হচ্ছে। শিার উতকর্ষিকতার লাভ ও জ্ঞান বৃদ্ধির স্বার্থে, আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জ্ঞান আরো উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাক। দেশ অর্থনীতির উন্নয়ন আরো এগিয়ে নিয়ে যাবার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *