কুডিগ্রামে সোস্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগাচ্ছে এক দল যুবক - হাতেখড়ি

কুডিগ্রামে সোস্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগাচ্ছে এক দল যুবক

খালিদ আহম্মেদ রাজা:

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ফেসবুক’ এ গ্রুপ খুলে তার মাধ্যমে বিভিন্ন অসহায় মানুষের চিকিৎসা, বাসস্থান, বিয়েসহ নানা ধরনের কাজের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে দিচ্ছে উত্তরবঙ্গের একদল যুবক। এরই ধারাবাহিকতায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের ০২নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত হাজিরকুটি গ্রামে বসবাসরত রবিদাস সম্প্রদায়ের এতিম সন্তান শান্তনা রবিদাসের বিয়ের জন্য ফেসবুক গ্রুপ ‘ওঁ সনাতন আমার ধর্ম’ এবং ‘সনাতনী যোদ্ধা’ গতকাল ০৭ মার্চ, ২০১৯ খ্রি. ৪১,৪৬১/- (একচল্লিশ হাজার চারশত একষট্টি) টাকা নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রি. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এতিম শান্তনার বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে পোস্ট করেছিলেন একই ইউনিয়নের ০৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা তপন কুমার। উল্লেখিত এই পোস্টটি দেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রদত্ত বিকাশ একাউন্টে টাকা আসতে থাকে। এক পর্যায়ে ফেসবুক গ্রুপ দুটি তপনের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অর্থ সংগ্রহ করে দেন তারা।

 একই ইউনিয়নের ০৫ নং ওয়ার্ডের সোবনদহ গ্রামের বাসিন্দা কাঠ মিস্ত্রী দিলীপ কুমারের মেয়ে দিপা অগ্নী দগ্ধ হলে তার দগ্ধ ছবিসহ ফেসবুকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্য চেয়ে পোস্ট করেন তপন এবং পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পরলে বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা আসতে শুরু করে দিপার চিকিৎসা তহবিলে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করার কয়েকদিনের মধ্যে ঐ পোস্টটি চট্টগ্রামের ডাক্তার যীশু দেব এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং ডাক্তার যীশু দগ্ধ দিপার সমস্ত চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দিপাকে তার কাছে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন এবং পুরোপুরি সুস্থ করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন দিপাকে। এভাবে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অর্থ সংগ্রহ করে একের পর এক অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন তপন ও তাদের ধর্মীয় সংগঠনগুলো। সমাজের সব শ্রেণির মানুষের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এই কাজগুলি করা দরকার বলে মনে করেন তপন। তিনি সকলকে এই ধরনের কাজে অংশগ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *