দিনের ২৪ ঘন্টা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে ভাল ফলাফল আসবেই -কানিজ (ভিডিও) - হাতেখড়ি

দিনের ২৪ ঘন্টা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে ভাল ফলাফল আসবেই -কানিজ (ভিডিও)

আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী কানিজ ফাতেমা জাবিন। পিইসি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি, জেএসসি পরীক্ষায় সাধারন বৃত্তি, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ পাঁচ পাওয়া কানিজ নানা বিষয়ে পারদর্শী। বাবা মো শাহজাহান মৃধা ও মা আয়েশা আখতার দম্পত্তির দুই কন্যার মধ্যে বড় কানিজ। কানিজের ছোট বোন তাসফিয়া মাহজাবিন তুবা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। পটুয়াখালীতে জন্ম নেয়া মেধাবী এই কিশোরী লেখাপড়ার পাশাপাশি ছবিআঁকা, সংগীত, আবৃত্তি, অভিনয়ে পারদর্শী। এছাড়াও ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিলে চলছে তার তাইকোয়ান্দো চর্চা। অঞ্চল পর্যায়ে কাবাডি খেলা, ব্যাডমিন্টন ও জানা আছে প্রোগ্রামিংও। আজকের ক্ষুদে তারাকার মুখোমুখি হয়েছে আব্দুল্লাহ আল মামুন

হাতেখড়ি: প্রথমে তোমার প্রিয় বিষয়গুলো জানতে চাই।
কানিজ: আমার প্রিয় ব্যাক্তি সত্যজিত রায় ও মেয়র আনিসুল হক। প্রিয় খেলা তাইকোয়ান্দো, ব্যাডমিন্টন ও ফুটবল। সবচে প্রিয় বই ঃ সমরেশ মজুমদারের সাতকাহন এবং গর্ভধারিনী।অবসরে সিনেমা দেখি, প্রিয় সিনেমার মধ্যে আছে স্পিরিটেড এওয়ে, ইনসেপশন, তারে জামিন পার। ভাললাগার জায়গা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের পুকুর ঘাট ও গাজীপুর শালবন।

হাতেখড়ি: একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কোথাও জড়িত আছো কি?
কানিজ: আমি  বাংলাদেশ স্কাউট, রেডক্রিসেন্ট, ভিশন ২০২০ সাউথ এশিয়া, কিশোর আলো এবং দূরন্ত পত্রিকায় শিশু সাংবাদিক হিসেবে জড়িত আছি। এছাড়া সৃষ্টি সুখের উল্লাস” নামের আমার নিজের একটি সংগঠন আছে, যেখানে আমরা সুবিধাবিঞ্চিত শিশুদের পড়ালেখার বিষয়ে কাজ করে থাকি।

হাতেখড়ি: তোমার বৃত্তি ও ফলাফল দেখে বোঝাযায় লেখাপড়ায় কোন ফাঁকি নেই। তারপাশাপাশি এতো কিছু কিভাবে শিখলে?
কানিজ: আমার ছবিআঁকার শুরু টা একেবারে ছোটবেলা থেকেই, হাতের কাছে কলম খাতা পেলেই যাচ্ছেতাই আঁকিবুকি করতাম। বড় হতে হতে আঁকার প্রতি ভালোবাসাটাও বাড়তে থাকলো। প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে কখনো ছবিআঁকা শেখা হয়নি, নিজের চেষ্টা আর ছবিআঁকার প্রতি তীব্র ভালোবাসা থেকে এতদূর আসা। এর পেছনে আম্মুর অনেক অবদান আছে, আম্মু বেশ ভালো আঁকে। কখনো কিছু এঁকে আম্মুকে দেখালে কোথায় কি ভুল হয়েছে আম্মু সেটা ধরিয়ে দিত, আমি আবার ঠিক করে নিতাম। ২০১৫ তে বি এফ শাহীন কলেজের সায়েন্স ফেয়ারে গিয়ে এক ভাইয়ার আঁকা তিন চারটা পোর্ট্রেট দেখেছিলাম। সেগুলো এত বেশিই সুন্দর ছিল যে আমি তার সামনে প্রায় আধা ঘন্টা দাঁড়িয়ে পোর্ট্রেট গুলো দেখেছি। এরপর বাড়িতে এসে কয়েক বার চেষ্টা করতেই আঁকা হয়ে গেল। এভাবে পোট্রেট আঁকা শিখেছি।

বিতর্কের শুরু  ক্লাস সিক্সে স্কুলে, খুব ভালোবাসার একটা স্থান, বিতর্ক কে ভালোবেসেই সামনে এগিয়ে যাওয়া। খেলাধুলার কথা বলতে গেলে, এটা রক্তে আছে, আমি চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসি। খেলাধুলার ক্ষেত্রে একটা চ্যালেঞ্জিং পরিবেশ, একটা টান টান উত্তেজনার আবহ থাকে। আর সেরা হওয়ার প্রবনতা থেকেই খেলাধুলায় আগ্রহ বেশি।

আর পড়ালেখায় সাফল্যের পেছনে আছে জানার আগ্রহ। আমার নতুন কিছু জানতে বেশ ভাল লাগে। পাঠ্যবই হোক আর অন্য কো বই, সব কিছুতেই কিছু না কিছু নতুন জিনিস থাকবেই, তাই পড়তে ভাল লাগে। আর সারাদিন বইয়ের পাতায় মুখ না গুজে থেকে অল্প সময় মন দিয়ে পড়ি বুঝে বুঝে পড়ি।

তাইকোয়ান্দো শিখছি নিজের জন্যই। প্রতিটি মেয়ের নিজের আত্মরাক্ষা জানা উচিৎ। তাতে করে নিজের অনেক সমস্যা নিজেই সমাধান করতে পারবে। হয়তো কেউ কেউ এটাকে কটুদৃষ্টিতে দেখবে, তাই ঘাবরালে চলবে না। নিজে চলার পথে বিপদে পড়লে ক’জন আছে যে এগিয়ে আসে। তাই নিজের আত্মরক্ষার জন্য তাইকোয়ান্দো চর্চা করছি।

হাতেখড়ি: অতিরিক্ত কাজগুলো করতে গিয়ে লেখা পড়ায় ক্ষতি হয়েছে কি?
কানিজ: সত্যি বলতে তেমন সমস্যা হয়নি, কারণ দিনে ২৪ ঘন্টা অনেক লম্বা একটা সময়। সঠিকভাবে সময়কে ব্যাবহার করতে পারলে সব কিছুই করা সম্ভব। অনেকের ধারনা ভাল ফলাফল করতে অনেক বেশি পড়া দরকার, কিন্ত আমার মতে অনেক বেশি পড়ার চেয়ে অনেক বেশি মনোযোগ দরকার। মনোযোগ দিয়ে বুঝে পড়লে ভালো ফলাফল আসবেই! আর এসব এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটিজ পড়ালেখায়ও অনেক সাহায্য করে, একজন মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়।

হাতেখড়ি: তোমার এই পথচলায় কোন বাধার সম্মুখিন হতে হয়েছে কিনা?
কানিজ: হ্যা, বাধাতো কিছু এসেছে। পরিবার থেকে হোক বা সমাজ থেকে- বাধা আসেই। বাবা মা অনেক সময় মনে করেছে আমি এসব বিষয়ে বেশি সময় নষ্ট করছি, হয়ত পড়ায় মন দিচ্ছি না। তখন এসব কাজে কড়াকড়ি আরোপ করতেন, আবার আশেপাশের মানুষ অনেকেই এসব কাজকে ভালো চোখে দেখত না এসব কাজ শুধুমাত্র সময়ের অপচয় মনে করত, কিন্ত তাদের এসবের সুবিধা বুঝিয়ে আস্তে আস্তে সামনে এগিয়েছি।
হাতেখড়ি: তোমার ভবিষ্যত পরিকল্পনা বলো।
কানিজ: আপাতত ভবিষ্যত পরিকল্পনা হচ্ছে পড়ালেখা শেষ করার পাশাপাশি এসব কাজ এগিয়ে যাওয়া। তবে বড় হয়ে আমি ঢাকার মেয়র হতে চাই, এই শহরটা কে খুব সুন্দর করে সাজাতে চাই। আমি দেশের জন্য অনেক কাজ করতে চাই। আমাকে যদি বলা হয় সবচেয়ে বেশি কাকে ভালোবাসো?আমি বলব আমার দেশকে, তাই আমার মেধা আর শ্রমের সবটুকু দিয়ে হলেও দেশের জন্য কিছু করতে চাই!

হাতেখড়ি: তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ আমাদের সময় দেয়ার জন্য।
কানিজ: হাতেখড়ি টিমকেও আমার শুভেচ্ছা। অিার যারা আমরা সাক্ষাৎকারটি পড়েছেন তাদেরকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

কানিজ ফাতেমা জাবিনের অর্জিত পুরস্কারসমূহ:
চিত্রাংকন: বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থ মেলা শিশু কিশোর চিত্রাঙ্গকন প্রতিযোগিতা ২০১৫ -৩য় স্থান, বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থ মেলা শিশু কিশোর চিত্রাঙ্গকন প্রতিযোগিতা ২০১৬- ২য় স্থান, ৩বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থ মেলা শিশু কিশোর চিত্রাঙ্গকন প্রতিযোগিতা ২০১৭-১ম স্থান, শিশু একাডেমি আয়োজিত শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস চিত্রাংকন প্রতোযোগিতা ২০১৬- ১ম স্থান, শেখ রাসেলের ৫০ তম জন্মদিন উপলক্ষে শি একাডেমি আয়োজিত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ২০১৪ -১ম স্থান, ১৫ ই আগস্ট শোক দিবস উপলক্ষে শুশু একাডেমি আয়োজিত চিত্রাংকন প্রোতিযোগিতা ২০১৬- ১ম স্থান, ১৫ ই আগস্ট শোক দিবস উপলক্ষে শুশু একাডেমি আয়োজিত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ২০১৫- ১ম স্থান, এছাড়াও স্কুল এর প্রায় সকল চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার পুরষ্কার প্রাপ্ত।

বিতর্কঃ 1st women’s nationals debate fest 2016 – চ্যাম্পিয়ন ও শ্রেষ্ঠ বক্তা। 13th IDC debate festival 2016 – semi finalist, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক মিলন মেলা ২০১৬  , আবৃত্তি ঃ ২য় স্থান, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক মিলন মেলা ২০১৬, চিত্রাংকন ঃ ১ম স্থান, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক মিলন মেলা ২০১৬, উপস্থিত বক্তৃতা ঃ ৩য় স্থান, বাংলাদেশ স্কাউটস উপদল নেতা প্রশিক্ষন ক্যাম্প ২০১৬, দ্যা স্কলারস ফোরাম বৃত্তি কার্যক্রম ২০১৫- সাধারন বৃত্তি, দ্যা স্কলারস ফোরাম বৃত্তি কার্যক্রম ২০১৫ – ট্যালেন্টপুল বৃত্তি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বই পড়া কর্ম সূচি ২০১৩ – স্বাগত পুরষ্কার, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বই পড়া কর্ম সূচি ২০১৪ – অভিনন্দন পুরষ্কার, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বই পড়া কর্ম সূচি ২০১৫ – অভিনন্দন পুরশকার, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বই পড়া কর্ম সূচি ২০১৬ – সেরা পাঠক পুরষ্কার,  বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বই পড়া কর্ম সূচি ২০১৭ – সেরা পাঠক পুরষ্কার, the 10th।nter school Red Cross Red Crescent Basic & First Aid Training 2014 – 3rd, আন্ত অঞ্চল কাবাডি প্রতিযোগিতা ২০১৫ ঃ চ্যাম্পিয়ন,  আন্ত স্কুল ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিত্রা ২০১৮ ঃ রানার আপ, আইডীয়াল ডিবেটিং ক্লাব এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন স্বরূপ পুরষ্কার ২০১৭, 13th IDc national debate festival 2015- best volunteer, এছাড়া স্কুলের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নাচ, গান, গজল, আবৃত্তি , অভিনয়, চিত্রাংকন,  খেলাধুলায় অর্ধশতাধিকের বেশি পুরষ্কার প্রাপ্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *