বিপন্ন কাকের আর্তনাদ - হাতেখড়ি

বিপন্ন কাকের আর্তনাদ

আব্দুল্লাহ আল মামুন:

পৃথিবীতে দশ হাজার প্রজাতি পাখির মধ্যে কাক অন্যতম। তবে মজার বিষয় হচ্ছে প্রকৃত অর্থে কাক যে একটি পাখি মানুষের মুখে কখনোই শোনা যায় না। সাধারণ কোন শিশুকে দোয়েল,ময়না, টিয়া জাতীয় পাখি দেখানো হলে বলা হয়, ওটি পাখি কিন্তু কাক কে সর্বদাই কাক হিসেবে পরিচিত করিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ কাক সব সময় নিজের অস্তিত্বকে বহন করে চলতে সক্ষম।

মূলত কাক এক প্রকার কর্ভিডি গোত্রের অন্তর্গত একজাতীয় পাখি যার প্রজাতির সংখ্যা ৪০ এবং পুরো কাঠামোই কালোর মধ্যে আবৃত। উষ্ণমন্ডলীয় সব মহাদেশে দক্ষিণ আমেরিকা ব্যতীত বেশ কিছু দ্বীপ অঞ্চলে কাকের বিস্তার রয়েছে। কাকের উদ্ভব ঘটেছে মধ্যএশিয়ায়। সেখান থেকে এটি উত্তর আমেরিকা,আফ্রিকা, ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে পুরো ভূমি এলাকা জুরেই কাকের দেখা মিলে কিন্তু অন্যান্য পাখির মতন কাক দেখলে কেও কৌতুহলি হয়ে পরে নাহ। তবে বাস্তবতায় কাককে পাখিজগতের সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিমান পাখি বলে মনে করা হয়। শুধু তাই নয়, প্রাণীজগতের অন্যতম বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে এদের গণ্য করা হয়।আধুনিক গবেষণায়তেও দেখা গেছে, কাক যে কেবল যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারে তাই নয়, যন্ত্রপাতি নির্মাণেও এরা পারদর্শী।

রাস্তায় চলবার পথে ধুরন্ত পাখির উপর সবাই বিরক্ত হয়, কারণ এরা এদের পেটের ভেতর হজমকৃত উচ্ছিষ্ট মানুষের মাথায় কিংবা গায়ের মধ্যে ফেলে। এবং প্রচলন আছে যে এরা নিচে মানুষ দেখলেই এই কাজটি সাধন ঘটায়।আবার কেও যদি গাছে কিংবা বৈদ্যুতিক তারে বসে থাকা কাকের দিকে মারার মতন করে ইশারা করে, তাহলে তারা উড়ানছু হয়ে নাগালের বাইরে যায়। এখান থেকে এদের ধুরন্ততার সাক্ষ্য মেলে।

সাধারণত কাক মানুষের ফেলে রাখা উচ্ছিষ্ট খেয়ে জীবন ধারণ করতে পারে এবং পরিচ্ছিন্ন জায়গায় কাক এর বিস্তার লক্ষ্য করা যায়না। কারণ সাধারণত তারা ময়লার জটলা পূর্ণ স্থান গুলোতে থাকে নিজের খাদ্য চাহিদার জন্যে।

কাককে বেশ বন্ধু পরায়ণ মূখিও বলতে হয়। যদি কখনো তাদের কোন সাথী বিপদগ্রস্থ হয়, একজন ডাকাডাকি করে, পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলবে এবং অন্য সকল বন্ধুদের একত্রিত করবে। কাক সাধারণত অন্য কিছু পাখি কোকিল, চোখগেলো, পাপিয়াসহ পরজীবী পাখিদের পোষকের ভূমিকা পালন করেও থাকে। এসব পাখি পাতিকাকের বাসায় ডিম পেড়ে যায় এবং পাতিকাক সেই ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফুটায় আর লালনপালন করে।

কাককে পরিবেশ রক্ষকও এবং যত্নশীল বলা যায়।মানুষের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক, ফিতা, রশি, কাটা টিনের টুকরো, কাপড়ের টুকরো, উল, তুলা, লোহার তার, পলিথিন, কাঠিকুঠি, সাইকেল ও রিকশার স্পোক, সিগারেটের প্যাকেট, ফেলে দেয়া কাগজ অর্থাৎ একটি জনপদের পরিত্যাক্ত প্রায় সবকিছু দিয়েই কাক আগোছালো বাসা তৈরী করে। এবং যেখানে ডিম দিয়ে বংশ বিস্তার করে। পুরুষ বা স্ত্রী কাক উভয় যত্নের সহিত বাচ্চা ডিম থেকে ফুটে বের হওয়া থেকে শুরু করে সক্ষম হওয়া পর্যন্ত বেশ যত্ন করে।

সমাজে চলা পথে তবুও কাক এক প্রকার দৃষ্টিকটু প্রানী। কাওকে কখনো বলতে শোনা যায় নি, যে কেও কাক পালতে চান। হয়ত কেও পালন করতে চাইলেও মানুষ হাস্যরুপে দেখবে এবং পাগলও বলতে পারে। উদাহারণ সরুপ চিড়িয়াখানা গুলোর খাঁচায় কোথাও কাক কে আবদ্ধরুপে পাওয়া যাবে সবাই মুক্ত আকাশে গণতন্ত্রের মতন উড়ে বেড়াতে দেখা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *