একাত্তরের শক্তিশালী স্লোগানগুলো - হাতেখড়ি

একাত্তরের শক্তিশালী স্লোগানগুলো

আব্দুল্লাহ আল মামুন:

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা ঘোষানার প্রাক্কালিন ও পরবর্তী সময় বাঙ্গালীর জাগ্রত করণে ভূমিকা রাখে অসংখ্যক স্লোগান। যা বাঙ্গালীর প্রেরণা জাগ্রত করণে বলিষ্ঠ জায়গা করে নেয়।

” জয় বাংল” ছিলো তখনকার স্বাধীনতাকামি বাঙ্গালীর প্রথম স্লোগান। যেটার মাধ্যমে বাঙ্গালীরা গর্জে উঠে এবং অগ্নি পথের পদযাত্রীক হয়।

এরপর বাঙ্গালীর পরিচয় কে বহন করার মতন অনন্য স্লোগান হচ্ছে ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা’ যা মুক্তিযুদ্ধের সময় সবার মুখে মুখে ছিল। এই স্লোগানটি মূলত বাংলাদেশ যে নদী মাতৃক দেশ এবং নদী যে বাঙ্গালীদের পরিচয় কে বহন করে যা প্রকাশ করে।মজার আরেকটি বিষয় হচ্ছে,হানাদার বাহিনীরা পানিকে ভিষণরূপে ভয় পেত। ফলে তাদের ভয় দেখাবার ক্ষেত্রে এই স্লোগানটি বেশ দিপ্তময় ভূমিকা রেখেছিল।

এরপরের বাঙ্গালীরা যে সাহসীক একক সত্তা বিশিষ্ট মানভ শক্তি তার প্রমান মেলে “তুমি কে? আমি কে? বাঙালি, বাঙালি’ -এই স্লোগানটি যা প্রতিটি মানুষের প্রাণের স্লোগানে রূপ নিয়েছিলো।এবং নিজেস্ব একক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছিলো।

এরপর আন্দোলন যখন দাবী মানাতে পরিপূর্ণতা লাভ করছিলো না তখন বাঙ্গালীদের কন্ঠে ধারণ হতে থাকে জলন্ত স্লোগান “বীর বাঙালি অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর”। এই স্লোগানটির মাধ্যমে জাগ্রত বাঙ্গালী সবাই অস্ত্র হাতে নিয়ে ঘর ছেড়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল।

যখন বাংলাদেশের মতন একটি দেশ যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে স্বাধীনতার জন্য ঝাপ দেয় তখন প্রয়োজন পরে বিশ্ব সম্প্রদায়কে জানান দেওয়ানোর যে আমাদের একজন নেতা রয়েছে। আর তিনি হচ্ছেন শেখ মুজিব। ফলে তখনকার স্লোগান হয়ে ওঠে “তোমার নেতা আমার নেতা শেখ মুজিব শেখ মুজিব”। সেই সময় যদিওবা শেখ মুজিব কারারুদ্ধ ছিলেন তবুও মানুষ অন্তরে ছিলো শেখ সাহেব নামক ব্যাক্তিটি৷ যার ৭ ই মার্চের নির্দেশনা ছিলো এর প্রধান ভিত্তি।

সেই সময়ে বাঙ্গালীদের সকলের কাছে অস্ত্র ছিলো না, ছিলো না অভিজ্ঞতাও।ফলে স্বাধীনতাকামি মানুষ গুলো কি করে লড়াই করবে তা নিয়ে দেখা দিচ্ছিল অনিশ্চয়তা। তখনি স্লোগানটি হয় ‘বীর বাঙালি লাঠি ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’। যেই স্লোগান এর মাধ্যমে বাঙ্গালীরা সাহস পায় যুদ্ধে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাপিয়ে পরে।যার নির্দেশনা শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চে রেসকোর্স ময়দানে দিয়ে দিয়ে ছিলেন।

এছাড়া স্বাধীনতার পূর্ব কালীনসময়ে আরো দুটি স্লোগান এর মধ্যে ছিলো ” জেলের তালা ভাংব, শেখ মুজিব কে আনব”। যেটিতে ছিলো প্রিয় নেতা মুজিব কে জেল থেকে মুক্তি করার জাগ্রত স্লোগান যা বঙ্গবন্ধুকে প্রেরণা দিয়েছিলো।

অপর আরেকটি স্লোগান হচ্ছে, “পিন্ডি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা ” যেটি দ্বারা বলা হয়েছিলো বাংলার এই ভূখণ্ডের ঢাকাই হবে এখানকার কেন্দ্রবিন্দু। এই সকল স্লোগানের ফলে, বাঙ্গালীরা জাগ্রত হতে পেরেছিল।ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলো স্বাধীনা স্লোগান নামক এই শক্তিময় তেজ দিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *