একটি কাঠের শহীদ মিনারের গল্প

মো. মেহেদী হাসান:
ফেব্রুয়ারি মাস। জুম বাংলাদেশ স্কুলের শিশুরা শ্রেণী কক্ষে সহপাঠীদের সাথে কথা বলছে, যদি আমাদের স্কুলে শহীদ মিনার থাকতো তাহলে আমারা সবাই একসঙ্গে সকালে ফুল দিতে পারতাম। আমাদের স্কুলে তো শহীদ মিনার নেই।

কথাটি শিক্ষকরা শুনতে পেয়ে সকল সদস্যদের সাথে আলোচনা করা হয়। সময় বাকি দু”দিন। খুব কম সময়ের ভেতর পরিকল্পনা করে জুম বাংলাদেশ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এসটি শাহীনকে অবহিত করে। তারপর চূড়ান্ত সিন্ধান্ত নেয় স্কুলে কাঠের তৈরি একটি শহীদ মিনার স্থাপন করা হবে।

১০ ঘন্টার মধ্যে তৈরি করা হয় একটি কাঠের শহীদ মিনার। সম্পূর্ণ তেরি হতে সন্ধ্যা নেমে আসে। সব সদস্য বাসায় চলে যায়। এটি কিভাবে স্কুলে স্থাপন করা হবে রাতে। রাত পোহালেই তো ২১ ফেব্রুয়ারি। গাইবান্ধা জুম বাংলাদেশ স্কুলের সম্বনয়ক মেহেদী হাসান স্কুলে নিয়ে আসে শহীদ মিনারটি। স্থানীয় দুজনের সহযোগিতায় স্কুল প্রাঙ্গণে রাত ৮ স্থাপন করা হয়।

আজ ২১ ফেব্রুয়ারি। সকালে শিশুরা স্কুলে এসে শহীদ মিনার দেখে অবাক হয়ে যায়। শহীদ মিনার দেখে তারা অনেক আনন্দিত।

জুম বাংলাদেশ স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ভলান্টিয়ার সকালে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কাঠের তৈরি শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে চিত্রাংকন ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *