একজন আলোকচিত্রী হওয়ার গল্প - হাতেখড়ি

একজন আলোকচিত্রী হওয়ার গল্প

আমানুর রহমান , নারায়ণগঞ্জ:

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দিক গ্যালারিতে আয়োজন হয়ে গেলো সান্সগ্রাফি বর্ষসেরা আলোকচিত্রী পুরষ্কার ২০১৮.যেখানে সারা দেশ থেকে হাজার হাজার আলোকচিত্রের মধ্যে বাছাই পর্বে প্রদর্শনীর জন্য মোবাইল ও প্রফেশনাল ক্যামেরা ক্যাটাগরিতে সর্বমোট ১৮৮ টি আলোকচিত্র মনোনয়ন পায়।প্রদর্শনীতে আলোকচিত্রগুলোর বিষয়বস্তু যেন এক একটি নবরত্ন। ছবিগুলোতে লুকিয়ে ছিলো জীবন,প্রকৃতি কিংবা তারুণ্যের এক ভিন্নরকম গল্প।প্রতিযোগিতায় প্রধান বিচারকের ভূমিকায় ছিলেন বাংলাদেশ অন্যতম আলোকচিত্র শিল্পী চঞ্চল মাহবুব।

সারাদিন প্রদর্শনীর পরিশেষে বর্ষসেরা আলোকচিত্রীর ২০১৮ এর  নাম ঘোষণা করার সময় চলে আসলো।সকলের মুখে তখন ছিলো ক্লান্তি ও কৌতুহলীর ছাপ। সান্সগ্রাফি প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্ষসেরা আলোকচিত্রী পুরষ্কার ২০১৮ এর আয়োজক সাকিবুল ইসলাম লিসান অবশেষে ঘোষণা করলো সেই কাংখিত সেরা আলোকচিত্রী নামটি।সকলকে ছাপিয়ে এবার বর্ষসেরা  আলোকচিত্রী হয়েছেন আব্দুলাহ আল মুকিত।উনার ছবির শিরোনাম ছিলো “দূরন্ত ছেলেবেলা।”

বাংলাদেশের সেরা আলোকচিত্রী   চঞ্চল মাহবুব কাছ থেকে সেরা হওয়ার পুরষ্কার নেওয়ার সময় আব্দুলাহ আল মুকিত বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে। তার চোখে ঝরছিল আনন্দের অশ্রু।অবশেষে তার মুখ শোনা হয়,আলোকচিত্রী হওয়ার পেছনের সেই অনুপ্রেরণামূলক গল্পটি।

“আসলে মোবাইল ফটোগ্রাফি করেছি ২-৩ বছর আগের থেকে। ক্যামেরা কিনে ফটোগ্রাফিটাকে আরো শক্তপোক্ত ভিত দেই গত বছর জুলাই থেকে। ক্যামেরা কেনার আগে থেকেই ইচ্ছা ছিল ওয়েডিং সাইড এ কাজ করব। নিজের হাত শোক্ত করার জন্য কয়দিন স্ট্রীট তুলি। এডিটিং দটওয়াক দিতে থাকি। এমন সময় একদিন ‘Ricky Photography’ এর রিকিদা আমাকে ডাক দেয়। তার ঝাড়ি গাইডলাইন এর ওয়েডিং এ কাজ শুরু করি । এখনো তারই সাথেই কাজ করে চলেছি।

ফটোগ্রাফি করতে হবে এটা মনে হওয়ার কারণ হল ছোটবেলা থেকেই ছবির প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিলো। আব্বুর একটা ‘Yashika’ ফিল্ম ক্যামেরা ছিল। ১০ বছর পর থেকে আমিই অইটা চালাতাম এবং একসময় নষ্ট করে ফেলেছিলাম। আবার খুলে দেখেছিলাম কিভাবে কি কাজ করে একটা ক্যামেরা। সেই থেকে ক্যামেরা আর ছবির প্রতি আগ্রহটা জন্মে যায়।

ফটোগ্রাফি তে ব্যার্থতার জায়গা বলতে আমার কাছে যা আসে,  প্রথম প্রথম কাজ করতে গেলে স্কোপ পেতাম না কাজ করার। ফ্রেম বাকা, লাইট কম, ডিফোকাস বিভিন্ন রকম পরিস্থিতির শিকার হয়েছি। আস্তে আস্তে ক্যামটাকে যখন খেলনা ভাবতে শুরু করলাম তখন নাড়াচাড়া করতে করতে ঘাটতে ঘাটতে বিভিন্ন জিনিস জানতে বুঝতে পারলাম।তখন আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যায় সবকিছু।এখনো শিখেই চলেছি এই আর কি।

আগামী পরিকল্পনা বললে একটাই বলব, ওয়েডিং সাইডে অন্তত উপরের সারির একটা টিমের মধ্যে নিজের টিমকে দেখতে চাই।

নাম ঘোষনার আগের অনুভূতি বললে আমি তার দুই দিন আগে থেকে শুরু করি। ১৩ই ফেব্রুয়ারী বসন্তবরণ উপলক্ষ্যে আমাদের “Frame In” থেকে একটা ইভেন্ট খোলা হয়েছিল। ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় এ ছবি উৎসবটি। অর্থাৎ প্রত্যেকের ছবি তুলে দেওয়া হবে। সেই ইভেন্ট শেষ করে সেদিন ঝিনাইদহ গেলাম রিকিদার কাছে।  সারারাত এডিটিং করে ঘুমালাম ৭ টায়। ১০ টায় উঠে আবার কিছু এডিটিং করে পরেরদিন কুষ্টিয়া এলাম সন্ধ্যায় এবং সেদিন রাতে ঢাকা রওয়ানা দিয়ে পরেরদিন ভোরে পৌছালাম। টার্গেট ছিল প্রদর্শনীতক উপস্থিত থাকার।এই ক্লান্ত শরীর নিয়ে যেতে ইচ্ছে মোটেও করছিল না, তাও গেলাম যেহেতু কথা দিয়েছিলাম যাবার। নাম ঘোষনার আগ মুহুর্তে লিসান ভাই যখন ফ্রেম টা হ্যাচকা টানে ওয়াল থেকে খুলে নিয়ে গেল আমার মনে দুম করে শংশ্য কাজ করছিল, নিজেরেই বলছিলাম “কি হইল?? সবার ফ্রেম থাকতে আমার ফ্রেম ই কেনো খুলে নিয়ে গেল?? কি হইল?” পরে দেখলাম যখন অইটা প্রাইজ পাচ্ছে আমি যেন পুরা শিহরিত।

নাম ঘোষনার পরে যখন প্রাইজ তা নিলাম খেয়াল করলে দেখবেন আমি কাপছিলাম।নিজের সেকেন্ড এক্সিবিশনেই টপ প্রাইজ!!! বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছিল।”

আগামীর আলোকচিত্রীদের জন্য আমি একটাই কথা বলবো “keep clicking, untill you find the best output”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *