অসুস্থ প্রতিযোগিতায় আর কতো? - হাতেখড়ি

অসুস্থ প্রতিযোগিতায় আর কতো?

খুরশিদ জামান কাকন:

দুপুরবেলা বাস স্টপেজ এ দাঁড়িয়ে আছি। দশ মিনিট পেরিয়ে গেলেও বাস আসার নাম নেই। এদিকওদিক ছুটাছুটি করছি। বাসের অপেক্ষায় প্রহর গুনছি। অবশেষে অপেক্ষার অবসান হলো। কাঙ্ক্ষিত বাসের দেখা মেললো। তবে একটা না, একসঙ্গে এক রুটের দুইটা বাস। কে কার আগে আসবে। কে কতো বেশি যাত্রী উঠাবে। এমনটাই চলছে তাদের মধ্যে।

যাইহোক আমি ওই দুই বাস ড্রাইভারের এরূপ কাণ্ডকারখানা দেখে আর এগুলাম না। পরের বাসের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। কিছুক্ষণ পরে আরেকটা বাস এলো। এবার বাসে উঠলাম। একটা ফাকা সিট পেলাম। সেখানেই বসলাম। কিন্তু তবুও বাস ছাড়ার নাম নাই। আরো যাত্রী উঠাতেই থাকলো। অথচ বাসে কোন সিট খালি নাই। কিছুক্ষণ পরেই বাসটি কানায় কানায় পূর্ণ হলো। দাঁড়াবারও কোন জায়গা নাই।

বাস ছেড়ে দিলো। গতিও বাড়তে লাগলো। যাত্রীসাধারণের কোণঠাসা অবস্থা। ঠিকমতো শ্বাস নেওয়ায় যেনো দায়। এর উপরে চলছে ড্রাইভারের মাত্রাতিরিক্ত গতি। কোনকিছুকেই দেখছে না। ওভারটেকের নেশায় ড্রাইভার যেনো পুরোপুরি মগ্ন।

কথায় বলে বাপেরও বাপ আছে। বাহাদুরেরও বড় বাহাদুর আছে। হঠাৎ পিছন থেকে একটা বাস এসে আমাদের বাসটাকে ওভারটেক করলো। কিন্তু আমাদের বাস ড্রাইভার এটা কোনভাবে মেনে নিতে পারলেন না। তিনিও গতি বাড়ালেন। কয়েকবার ওভারটেক করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু পারলেন না।

হঠাৎ ড্রাইভার কষে ব্রেক ধরলেন। আমরা সবাই সামনের দিক ঝুকে গেলাম। ভাগ্যিস কারো কিছু হয় নি। সবাই ড্রাইভারকে বকাঝকা দিতে লাগলো। ড্রাইভার বেচারা এবার নিরুপায় চুপচাপ সব সহ্য করলো। ঘটনা বুঝার জন্য সামনের দিক চোখ রাখলাম। দেখলাম বেশ কয়েকটি বিট। সেদিকে ড্রাইভারের নজর ছিলো না। তিনি ব্যস্ত ছিলেন অসুস্থ প্রতিযোগিতায়। যারই ফলশ্রুতিতে ঘটতে যাচ্ছিলো আরেকটা দূর্ঘটনা।

এরকমটা শুধু আজকের কথা না। নিয়মিতই এমনটা দেখে আসছি। এইতো কিছুদিন আগেই বাস চাপায় দুইজন শিক্ষার্থী মারা গেলো। সারাদেশ জুড়ে আন্দোলন হলো। সড়ক পথে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন আইনের পরিবর্তন ঘটানো হলো। তবুও অবস্থার তেমন কোন পরিবর্তন নেই। সেবা খাতের নামে পরিবহণ খাতের অবস্থা এখন সত্যিই যাচ্ছেতাই।

সেবা নয়, ব্যবসায় এখন পরিবহণ খাতের মূল হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার কারনেই চলছে এরকম নোংরা প্রতিযোগিতা। সেই সাথে দিনকে দিন বাড়ছে সড়ক পথে মৃত্যুর মিছিলের সংখ্যা। এভাবে চললে আজ নয়তো কাল আমার-আপনার নামও লেখা হবে পারে সড়ক পথে মৃত্যুর মিছিলের খাতায়

শিক্ষার্থী, তিতুমির কলেজ ঢাকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *